সংস্কার বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (দ্বিতীয় অধ্যায়), Part- 2

১. পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা

পরিচয়

উনিশ শতকে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে রাজা রামমোহন রায় অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন।

তাঁর মতামত

  • পাশ্চাত্য শিক্ষা ছাড়া ভারতীয়দের সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করা সম্ভব নয়।
  • আধুনিক বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন।

অবদান

১. অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা

  • 1822 সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন।

২. আধুনিক শিক্ষার পক্ষে আন্দোলন

  • 1813 সালের সনদ আইনে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ অর্থ আধুনিক বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষায় ব্যয়ের দাবি জানান।

৩. সহযোগিতা

  • ডেভিড হেয়ার
  • আলেকজান্ডার ডাফ

প্রমুখকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে সাহায্য করেন।

৪. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা

  • হিন্দু কলেজের ছাত্রদের ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক বই বাংলায় অনুবাদ করতে উৎসাহ দেন।

৫. বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা

  • 1826 সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

উদ্দেশ্য

  • কুসংস্কার দূর করা
  • যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশ
  • আধুনিক শিক্ষার প্রসার

২. পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা

পরিচয়

রাধাকান্ত দেব ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজনেতা।

অবদান

১. হিন্দু কলেজ

  • হিন্দু কলেজের পরিচালন সমিতির অন্যতম সদস্য ছিলেন।

২. শিক্ষা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত

  • Calcutta School Society
  • School Book Society

৩. স্ত্রীশিক্ষা বিষয়ক পুস্তিকা

  • 1822 সালে ‘স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক’ প্রকাশ করেন।

৪. হিন্দু মেট্রোপলিটন কলেজ

  • পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন।

৫. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা

  • বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদের জন্য ছাত্রদের উৎসাহিত করতেন।

গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ

📖 শব্দকল্পদ্রুম

  • রাধাকান্ত দেবের রচিত বিখ্যাত সংস্কৃত অভিধান।

৩. ডেভিড হেয়ারের অবদান

পরিচয়

  • ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারতে আসেন।
  • ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন।
  • নিজের জীবন ভারতীয়দের শিক্ষা ও কল্যাণে উৎসর্গ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ অবদান

১. হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা

  • 1817 সালে
  • তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. স্কুল বুক সোসাইটি

  • 1817 সালে
  • বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যপুস্তক রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত।

৩. পটলডাঙ্গা একাডেমি

  • 1818 সালে
  • বর্তমানে হেয়ার স্কুল নামে পরিচিত।

৪. চিকিৎসা শিক্ষার সমর্থন

  • কলকাতা মেডিকেল কলেজে প্রথম শবব্যবচ্ছেদের সমর্থন করেন।

৪. কলকাতা মেডিকেল কলেজের ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা

লর্ড বেন্টিঙ্কের উদ্যোগ

  • 1833 সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাকাল

  • 1835 সালে
  • কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

উদ্দেশ্য

  • ইংরেজি ভাষায় ইউরোপীয় চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা প্রদান।

প্রথম অধ্যক্ষ

  • মন্টফোর্ড ব্রামলি

গুরুত্ব

১. আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার সূচনা

  • পাশ্চাত্যের চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্রুত প্রসার লাভ করে।

২. এশিয়ার দ্বিতীয় মেডিকেল কলেজ

  • যেখানে ইউরোপীয় চিকিৎসাবিদ্যা পড়ানো হত।

৩. চিকিৎসা ক্ষেত্রে নবযুগের সূচনা

  • বাংলা ও ভারতের চিকিৎসা শিক্ষার উন্নতি ঘটে।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব

প্রথম শবব্যবচ্ছেদকারী

➡️ মধুসূদন গুপ্ত

প্রথম মহিলা ডাক্তার

➡️ কাদম্বিনী গাঙ্গুলি

উল্লেখযোগ্য ডাক্তার

  • উমেশচন্দ্র শেঠ
  • রাজকৃষ্ণ দে
  • দ্বারকানাথ গুপ্ত

৫. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা

সাল

  • 1857

আইন

  • Indian Universities Act (1857)

প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়

  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বোম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়
  3. মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশেষত্ব

  • দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পাশ্চাত্য ধাঁচের বিশ্ববিদ্যালয়।
  • অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে গড়ে ওঠে।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি

প্রথম আচার্য (Chancellor)

➡️ লর্ড ক্যানিং

প্রথম উপাচার্য (Vice-Chancellor)

➡️ স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল

📌 গুরুত্বপূর্ণ সাল

ঘটনা সাল
হিন্দু কলেজ 1817
স্কুল বুক সোসাইটি 1817
পটলডাঙ্গা একাডেমি 1818
অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল 1822
স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক 1822
বেদান্ত কলেজ 1826
কলকাতা মেডিকেল কলেজ 1835
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 1857

✍️ MCQ Practice

1. অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন—

A) ডেভিড হেয়ার
B) রাধাকান্ত দেব
C) রাজা রামমোহন রায় ✅
D) আলেকজান্ডার ডাফ

2. শব্দকল্পদ্রুম-এর রচয়িতা—

A) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
B) রাজা রামমোহন রায়
C) রাধাকান্ত দেব ✅
D) ডেভিড হেয়ার

3. কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়—

A) 1822
B) 1835 ✅
C) 1849
D) 1857

4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়—

A) 1835
B) 1849
C) 1857 ✅
D) 1882

✅ True / False

  1. ডেভিড হেয়ার হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। → সত্য
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 1835 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। → মিথ্যা
  3. মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করেন। → সত্য
  4. রাধাকান্ত দেব ‘শব্দকল্পদ্রুম’ রচনা করেন। → সত্য

🎯 One-Line Revision

✅ রাজা রামমোহন রায় → অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল (1822)
✅ বেদান্ত কলেজ → 1826
✅ রাধাকান্ত দেব → শব্দকল্পদ্রুম
✅ ডেভিড হেয়ার → হিন্দু কলেজ (1817)
✅ স্কুল বুক সোসাইটি → 1817
✅ পটলডাঙ্গা একাডেমি → 1818
✅ কলকাতা মেডিকেল কলেজ → 1835
✅ মধুসূদন গুপ্ত → প্রথম শবব্যবচ্ছেদ
✅ কাদম্বিনী গাঙ্গুলি → প্রথম মহিলা ডাক্তার
✅ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় → 1857
✅ লর্ড ক্যানিং → প্রথম আচার্য
✅ জেমস উইলিয়াম কোলভিল → প্রথম উপাচার্য

 নারী শিক্ষায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা

নারী শিক্ষার প্রাথমিক উদ্যোগ

বাংলায় নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেয় খ্রিস্টান মিশনারিরা।

গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ

প্রতিষ্ঠান সাল প্রতিষ্ঠাতা
প্রথম বালিকা বিদ্যালয় 1811 উইলিয়াম কেরি ও মার্শম্যান
Female Juvenile Society 1819 ব্যাপ্টিস্ট মিশন
London Missionary School 1818 রবার্ট মে
Ladies Society for Native Female Education 1824 খ্রিস্টান মিশনারি
Calcutta Female School 1828 মিশনারিগণ

 ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারকদের একজন। তিনি নারীমুক্তি, নারীশিক্ষা এবং সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১. হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় (1849)

প্রতিষ্ঠাতা

  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  • জন এলিয়ট ড্রিংকওয়াটার বেথুন

বর্তমান নাম

➡️ বেথুন স্কুল

গুরুত্ব

  • ভারতের প্রথম আধুনিক বালিকা বিদ্যালয়।
  • নারীশিক্ষার নতুন যুগের সূচনা করে।

২. গ্রামাঞ্চলে নারীশিক্ষা বিস্তার

নারীদের শিক্ষার জন্য বিভিন্ন জেলায় স্ত্রীশিক্ষা বিধায়নী সম্মিলনী গঠন করেন।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা

  • 1858 সালের মে মাসের মধ্যে 35টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

নারী শিক্ষার অগ্রগতি

  • 1854 সালে বাংলায় বালিকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল 288টি।

৩. মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন

প্রতিষ্ঠা

  • 1872 সালে কলকাতায়

বর্তমান নাম

➡️ বিদ্যাসাগর কলেজ

উদ্দেশ্য

  • আধুনিক শিক্ষার প্রসার
  • উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি

৪. ভগবতী বিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠা

  • বীরসিংহ গ্রামে

উদ্দেশ্য

  • গ্রামের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রদান

 নারী শিক্ষার ফলাফল

নারী শিক্ষার প্রসারের ফলে বাংলায় বহু শিক্ষিত নারী তৈরি হন।

উল্লেখযোগ্য নারী

কাদম্বিনী গাঙ্গুলি

  • ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতকদের একজন।
  • প্রথম মহিলা চিকিৎসক।

২. বিধবা বিবাহ আন্দোলন

পটভূমি

উনিশ শতকের হিন্দু সমাজে বিধবাদের জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তাদের পুনর্বিবাহের অধিকার ছিল না।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই অন্যায় প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।

বিদ্যাসাগরের ভূমিকা

  • শাস্ত্র থেকে বিধবা বিবাহের সমর্থনে প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
  • সমাজে জনমত গড়ে তোলেন।
  • সরকারের কাছে আবেদন করেন।

বিধবা বিবাহ আইন

সাল

➡️ 1856 খ্রিস্টাব্দ

শাসক

➡️ লর্ড ক্যানিং-এর আমলে

আইন

➡️ Hindu Widow Remarriage Act, 1856

গুরুত্ব

  • বিধবা নারীরা পুনর্বিবাহের আইনি অধিকার লাভ করেন।
  • নারী স্বাধীনতার পথে বড় পদক্ষেপ।

 গুরুত্বপূর্ণ সাল

ঘটনা সাল
প্রথম বালিকা বিদ্যালয় 1811
Female Juvenile Society 1819
Ladies Society for Native Female Education 1824
Calcutta Female School 1828
হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় (বেথুন স্কুল) 1849
বিধবা বিবাহ আইন 1856
35টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা 1858
মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন 1872

 MCQ Practice

1. ভারতের প্রথম আধুনিক বালিকা বিদ্যালয় হল—

A) ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল
B) হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় ✅
C) মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন
D) বেথুন কলেজ

2. হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়—

A) 1828
B) 1835
C) 1849 ✅
D) 1856

3. বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়—

A) 1849
B) 1854
C) 1856 ✅
D) 1858

4. মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয়—

A) 1856
B) 1861
C) 1872 ✅
D) 1885

5. প্রথম মহিলা চিকিৎসক ছিলেন—

A) স্বর্ণকুমারী দেবী
B) কাদম্বিনী গাঙ্গুলি ✅
C) সরলা দেবী
D) অবলা বসু

✅ True / False

  1. বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষার বিরোধিতা করেছিলেন। → মিথ্যা ❌
  2. বেথুন স্কুলের পূর্বনাম ছিল হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়। → সত্য ✅
  3. বিধবা বিবাহ আইন 1856 সালে পাশ হয়। → সত্য ✅
  4. মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ নামে পরিচিত। → সত্য ✅

🎯 One-Line Revision

✅ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর → নারীশিক্ষার অগ্রদূত
✅ হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় → 1849
✅ বেথুন + বিদ্যাসাগর → নারীশিক্ষা আন্দোলন
✅ 35টি বালিকা বিদ্যালয় → 1858
✅ বিধবা বিবাহ আইন → 1856
✅ লর্ড ক্যানিং → বিধবা বিবাহ আইন কার্যকর
✅ মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন → 1872
✅ বর্তমান নাম → বিদ্যাসাগর কলেজ
✅ কাদম্বিনী গাঙ্গুলি → প্রথম মহিলা চিকিৎসক

Long Questions & Answers

1. নারীশিক্ষার প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর।

উত্তর:

উনিশ শতকের বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করতেন যে সমাজের উন্নতির জন্য নারীদের শিক্ষিত হওয়া অপরিহার্য।

প্রথমত, তিনি জন এলিয়ট ড্রিংকওয়াটার বেথুনের সহযোগিতায় 1849 সালে কলকাতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত। এটি ছিল ভারতের প্রথম আধুনিক বালিকা বিদ্যালয়।

দ্বিতীয়ত, তিনি গ্রামাঞ্চলে নারীশিক্ষা বিস্তারের জন্য বিভিন্ন জেলায় স্ত্রীশিক্ষা বিধায়নী সম্মিলনী গঠন করেন।

তৃতীয়ত, 1858 সালের মধ্যে তিনি বাংলার বিভিন্ন স্থানে 35টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

চতুর্থত, তিনি সমাজের রক্ষণশীল মনোভাব ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করে নারীশিক্ষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।

ফলস্বরূপ বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসার ঘটে এবং কাদম্বিনী গাঙ্গুলির মতো শিক্ষিত নারীর আবির্ভাব হয়।

উপসংহার: নারীশিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের অবদান বাংলার সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

2. বিধবাবিবাহ আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর।

উত্তর:

উনিশ শতকের হিন্দু সমাজে বিধবাদের জীবন ছিল অত্যন্ত দুর্বিষহ। তারা পুনর্বিবাহের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই অন্যায় প্রথার বিরুদ্ধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আন্দোলন শুরু করেন।

প্রথমে তিনি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও শাস্ত্র থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেন যে হিন্দুধর্মে বিধবাবিবাহ নিষিদ্ধ নয়।

এরপর তিনি সংবাদপত্র, পুস্তিকা ও সভার মাধ্যমে জনমত গঠন করেন এবং সরকারের কাছে আবেদন জানান।

বিদ্যাসাগরের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে 1856 সালে হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন (Hindu Widow Remarriage Act) পাশ হয়। লর্ড ক্যানিং-এর আমলে এই আইন কার্যকর হয়।

এই আইনের মাধ্যমে হিন্দু বিধবারা পুনর্বিবাহের আইনি অধিকার লাভ করেন এবং সমাজে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার: বিধবাবিবাহ আন্দোলনে বিদ্যাসাগরের অবদান ভারতীয় সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে যুগান্তকারী।

3. বাংলায় নারীশিক্ষার বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান মূল্যায়ন কর।

উত্তর:

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন বাংলার নারীশিক্ষা আন্দোলনের প্রধান পথপ্রদর্শক।

তিনি 1849 সালে বেথুনের সহযোগিতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে বাংলার বিভিন্ন জেলায় বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। 1858 সালের মধ্যে তিনি 35টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার দূর করার জন্য প্রচার চালান। শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন করে তোলার চেষ্টা করেন।

তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলায় শিক্ষিত নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং কাদম্বিনী গাঙ্গুলির মতো কৃতী নারীর আবির্ভাব ঘটে।

উপসংহার: নারীশিক্ষা বিস্তারে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা বাংলার নবজাগরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

4. হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের গুরুত্ব আলোচনা কর।

উত্তর:

1849 সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও ড্রিংকওয়াটার বেথুনের উদ্যোগে কলকাতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এটি বেথুন স্কুল নামে পরিচিত হয়।

এই বিদ্যালয় ছিল ভারতের প্রথম আধুনিক বালিকা বিদ্যালয়। এর মাধ্যমে নারীদের শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

সমাজের রক্ষণশীল অংশের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টি নারীশিক্ষাকে জনপ্রিয় করে তোলে। এটি বাংলায় নারীশিক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

পরবর্তীকালে বহু শিক্ষিত নারী এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করেন এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখেন।

উপসংহার: হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় বাংলার নারীশিক্ষা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

5. নারীশিক্ষা ও বিধবাবিবাহ আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা কর।

উত্তর:

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারক। তিনি নারীশিক্ষা ও বিধবাবিবাহ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি 1849 সালে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বালিকা বিদ্যালয় গড়ে তোলেন এবং নারীশিক্ষার প্রসারে জনমত গঠন করেন।

অন্যদিকে, বিধবাবিবাহ আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি শাস্ত্রসম্মত যুক্তি দিয়ে বিধবাদের পুনর্বিবাহের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় 1856 সালে বিধবাবিবাহ আইন পাশ হয়।

তাঁর সমাজসংস্কারমূলক কর্মসূচি নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং বাংলার নবজাগরণকে শক্তিশালী করে।

উপসংহার: নারীশিক্ষা ও বিধবাবিবাহ আন্দোলনে বিদ্যাসাগরের অবদান তাঁকে বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরুষে পরিণত করেছে।

 

Scroll to Top