
Characteristics and Analysis
১৮৫৭-র বিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি
সূচনা
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই বিদ্রোহের প্রকৃতি ও চরিত্র সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে সিপাহী বিদ্রোহ, কেউ জাতীয় বিদ্রোহ, কেউ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ, আবার কেউ কৃষক বিদ্রোহ বা মুসলমান চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন।
১. সিপাহী বিদ্রোহ
- স্যার সৈয়দ আহমেদ খান, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, চার্লস রেকস প্রমুখ এই মতের সমর্থক।
- তাদের মতে বিদ্রোহের সূচনা ও নেতৃত্ব সিপাহিরাই দিয়েছিল।
- শিক্ষিত সমাজ ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সমর্থন ছিল না।
- রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে এটি ছিল একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র।
২. জাতীয় বিদ্রোহ
- সুশোভন সরকার, আলেকজান্ডার ডাফ, শশীভূষণ চৌধুরী প্রমুখ এই মতের সমর্থক।
- শুধু সিপাহি নয়, সাধারণ মানুষও বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল।
- বিদ্রোহীরা বাহাদুর শাহ দ্বিতীয়কে সম্রাট ঘোষণা করেছিল।
- তাই এটি জাতীয় ও গণবিদ্রোহের রূপ লাভ করেছিল।
৩. গণবিদ্রোহ
- কানপুর, ঝাঁসি, লখনৌ প্রভৃতি অঞ্চলে সাধারণ জনগণ বিদ্রোহে অংশ নেয়।
- কৃষক, কারিগর, জমিদার ও অসামরিক ব্যক্তিরাও যুক্ত হয়েছিল।
- ফলে অনেক ঐতিহাসিক একে গণবিদ্রোহ বলে মনে করেন।
৪. ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ
- বিনায়ক দামোদর সাভারকর তাঁর “Indian War of Independence” গ্রন্থে এই বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলেছেন।
- ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তি লাভ ছিল বিদ্রোহীদের প্রধান লক্ষ্য।
- যদিও অনেক ঐতিহাসিক এই মতের বিরোধিতা করেছেন।
৫. কৃষক বিদ্রোহ
- ঐতিহাসিক খালদুনের মতে এটি ছিল কৃষক বিদ্রোহ।
- অসংখ্য কৃষক এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।
- কৃষকদের অসন্তোষ বিদ্রোহকে শক্তিশালী করেছিল।
৬. মুসলমান চক্রান্ত
- আর. এইচ. কুরেশি ও সৈয়দ মইনুল হক এই মতের সমর্থক।
- তাদের মতে মুঘল সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল।
- তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক এই মতকে গ্রহণ করেন না।
- কারণ হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল।
উপসংহার
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে মতভেদ থাকলেও এটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের প্রথম বৃহৎ প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল। এতে সিপাহী, কৃষক, জমিদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। তাই এটিকে শুধু সিপাহী বিদ্রোহ না বলে একটি বহুমাত্রিক বিদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৮৫৭-র বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব
মনোভাব
- অধিকাংশ শিক্ষিত বাঙালি এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেননি।
- তারা বিদ্রোহকে সামরিক বিদ্রোহ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বলে মনে করতেন।
- কিশোরীচাঁদ মিত্র, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বিদ্রোহকে সিপাহী বিদ্রোহ বলে ব্যাখ্যা করেন।
- অক্ষয়কুমার দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তও বিদ্রোহকে সমর্থন করেননি।
সামন্ততান্ত্রিক প্রবণতার বিরোধিতা
- রাজা রাধাকান্ত দেব, কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রমুখ ইংরেজ সরকারের প্রতি সমর্থন জানান।
- ২৫ মে ১৮৫৭ কলকাতা হিন্দু মেট্রোপলিটন কলেজে সিপাহি বিদ্রোহের নিন্দা করা হয়।
- বাহাদুর শাহ, নানাসাহেব ও রানি লক্ষ্মীবাইয়ের নেতৃত্বেরও সমালোচনা করা হয়।
উপসংহার
- অধিকাংশ শিক্ষিত বাঙালি বিদ্রোহের বিরোধিতা করলেও কিছু মানুষ সহানুভূতিশীল ছিলেন।
- পরবর্তীকালে এই শিক্ষিত সমাজই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়।
সভাসমিতির যুগ
সূচনা
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধির ফলে উনিশ শতকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতির জন্ম হয়। এগুলি পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৈশিষ্ট্য
- ভারতীয়দের স্বার্থ রক্ষা করা।
- ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করা।
- সদস্যরা প্রধানত শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির ছিলেন।
- সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত।
- রাজনৈতিক কার্যকলাপ ছিল ধীরগতির।
- জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটায়।
প্রধান সভা-সমিতি
বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা (১৮৩৬)
- প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠাতা: রাজা রামমোহন রায়ের অনুগামীরা।
- সভাপতি: গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য।
- সম্পাদক: দুর্গাপ্রসাদ তর্কপঞ্চানন।
জমিদার সভা (১৮৩৮)
- প্রতিষ্ঠাতা: দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- সভাপতি: রাজা রাধাকান্ত দেব।
- উদ্দেশ্য:
- জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বজায় রাখা।
- ব্রিটিশ প্রশাসনের সমর্থন লাভ।
হিন্দুমেলা (১৮৬৭)
- প্রতিষ্ঠাতা: নবগোপাল মিত্র।
- প্রথম সম্পাদক: জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উদ্দেশ্য:
- দেশপ্রেম জাগানো।
- দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার।
- জাতীয় চেতনা বৃদ্ধি।
ভারতসভা / Indian Association (১৮৭৬)
- প্রতিষ্ঠাতা: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসু।
- প্রথম অধিবেশন: কলকাতার আলবার্ট হলে।
- উদ্দেশ্য:
- রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি।
- জাতীয় ঐক্য গঠন।
- হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখা।
- সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত করা।
ভারতসভার সাফল্য
- সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স বৃদ্ধি আন্দোলন।
- ইলবার্ট বিল সমর্থন।
- অস্ত্র আইন ও সংবাদপত্র আইনের বিরোধিতা।
- প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়নে ভূমিকা।
- ১৮৮৩ সালে সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন আয়োজন।
উপসংহার
সভাসমিতির যুগ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তোলে। এই সংগঠনগুলির কার্যকলাপের ফলেই পরবর্তীকালে ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্বাধীনতা আন্দোলন শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করে।
লেখায় ও রেখায় জাতীয়তাবোধের বিকাশ : বৈশিষ্ট্য ও মূল্যায়ন
সূচনা
ব্রিটিশ শাসনকালে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে ভারতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব হয়। এই শ্রেণিই সাহিত্য, সাংবাদিকতা, সংগীত ও চিত্রকলার মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও স্বদেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তোলে। লেখনী ও শিল্পকলার মাধ্যমে জাতীয়তাবোধের বিকাশে বহু সাহিত্যিক ও শিল্পী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বৈশিষ্ট্য
- সাহিত্য, গান ও চিত্রকলার মাধ্যমে জাতীয়তাবোধের প্রচার।
- ভারতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গৌরব তুলে ধরা।
- ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা।
- স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা প্রচার।
- ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে জাতীয় চেতনা গড়ে তোলা।
- যুবসমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা।
জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
- দীনবন্ধু মিত্র
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- রমেশচন্দ্র দত্ত
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- স্বামী বিবেকানন্দ
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও ‘বন্দেমাতরম’
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দেমাতরম’ গান রচনা করেন।
- গানটি তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে স্থান পায়।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ভিকাজি কামা ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকায় ‘বন্দেমাতরম’ শব্দটি লিখেছিলেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে শ্রী অরবিন্দ গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
গুরুত্ব
- স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলে।
- স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনুপ্রাণিত করে।
- জাতীয় আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।
স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিকা
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
- বর্তমান ভারত
- ভাববার কথা
- প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য
অবদান
- ১৯০৫ সালে ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- ভারতীয় ইতিহাস ও সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
- জাতিভেদ প্রথার সমালোচনা করেন।
- দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের উন্নয়নের কথা বলেন।
- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।
- স্বদেশপ্রেম ও আত্মশক্তির আদর্শ প্রচার করেন।
মূল্যায়ন
- তাঁর রচনা বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
- ঐতিহাসিক আর. জি. প্রধান তাঁকে “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক” বলে অভিহিত করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ‘গোরা’
অবদান
- রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য জাতীয়তাবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘গোরা’ জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রতিফলন।
গোরা উপন্যাসের মূল বক্তব্য
- যুবসমাজকে দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ করা।
- ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরোধিতা।
- হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা।
- ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানবতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
- জাতীয় ঐক্য ও স্বদেশপ্রেমের আহ্বান।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ‘ভারতমাতা’
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময় ‘ভারতমাতা’ চিত্র অঙ্কন করেন।
- চিত্রে ভারতমাতাকে চারভুজা রূপে দেখানো হয়েছে।
ভারতমাতার হাতে ছিল
- বেদ
- ধানের শীষ
- জপের মালা
- শীতবস্ত্র
গুরুত্ব
- ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক।
- স্বদেশী আন্দোলনে জাতীয়তাবোধ জাগাতে সাহায্য করে।
- ভগিনী নিবেদিতা এই চিত্রের প্রশংসা করেন।
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র
পরিচয়
- জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সদস্য।
- বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও কার্টুনিস্ট।
- ১৯০৭ সালে অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে Indian Society of Oriental Art প্রতিষ্ঠা করেন।
উল্লেখযোগ্য রচনা
- অদ্ভুত লোক (১৯১৫)
- বিরূপ বজ্র (১৯১৭)
- নয়া হুল্লোড় (১৯২১)
ব্যঙ্গচিত্রের বিষয়বস্তু
- শিক্ষিত বাঙালির পাশ্চাত্য অনুকরণ।
- ধনী ও অভিজাত শ্রেণির জীবনযাপন।
- সামাজিক কুসংস্কার ও ভণ্ডামি।
- ঔপনিবেশিক সমাজব্যবস্থার সমালোচনা।
গুরুত্ব
- ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তোলেন।
- স্বদেশপ্রেম ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মূল্যায়ন
- সাহিত্য, সংগীত ও চিত্রকলার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভারতীয়দের মধ্যে আত্মমর্যাদা ও স্বদেশপ্রেমের চেতনা বৃদ্ধি পায়।
- স্বাধীনতা আন্দোলনের আদর্শগত ভিত্তি শক্তিশালী হয়।
- লেখক ও শিল্পীদের অবদান ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উপসংহার
লেখায় ও রেখায় জাতীয়তাবোধের বিকাশ ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও শিল্পীরা তাঁদের রচনা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন, যা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।
১৮৫৭-র বিদ্রোহ, সভা-সমিতি ও জাতীয়তাবাদ — গুরুত্বপূর্ণ MCQ (উত্তরসহ)
Question 1
সমাজতন্ত্রবিদ কার্ল মার্কস ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে বলেছেন—
A) সিপাহি বিদ্রোহ
B) সামন্ত বিদ্রোহ
C) ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ
D) জাতীয় বিদ্রোহ
Answer: D) জাতীয় বিদ্রোহ
Question 2
মহাবিদ্রোহকে সামন্ত বিদ্রোহ বলেছেন—
A) বিপান চন্দ্র
B) ইরফান হাবিব
C) রোমিলা থাপার
D) রজনী পাম দত্ত
Answer: D) রজনী পাম দত্ত
Question 3
মহাবিদ্রোহকে (১৮৫৭) ‘কৃষক বিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়েছেন—
A) সুরেন্দ্রনাথ সেন
B) রমেশচন্দ্র মজুমদার
C) শশীভূষণ চৌধুরী
D) খালদুন
Answer: D) খালদুন
Question 4
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ বলেছিলেন—
A) সুভাষচন্দ্র বসু
B) জওহরলাল নেহরু
C) ভি. ডি. সাভারকর
D) রাসবিহারী বসু
Answer: C) ভি. ডি. সাভারকর
Question 5
“১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের তথাকথিত প্রথম জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম—প্রথম নয়, জাতীয় নয় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামও নয়।”— এটি কার উক্তি?
A) ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
B) ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন
C) সুশোভন সরকার
D) হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
Answer: A) ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
Question 6
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহকে ‘মুসলমানদের ষড়যন্ত্র’ বলেছেন—
A) নটন
B) ডিজরেলি
C) আউট্রাম
D) নিকলসন
Answer: C) আউট্রাম
Question 7
“১৮৫৭-এর বিদ্রোহ ছিল অভিজাততন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের মৃত্যুকালীন আর্তনাদ”—এ কথা কে বলেছেন?
A) ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন
B) সুশোভন সরকার
C) ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
D) সুমিত সরকার
Answer: B) সুশোভন সরকার
Question 8
“The Sepoy Mutiny and the Revolt of 1857” গ্রন্থটির লেখক হলেন—
A) ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন
B) রজনী পাম দত্ত
C) ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
D) রণজিৎ গুহ
Answer: C) ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
Question 9
‘Eighteen Fifty Seven’ গ্রন্থের লেখক হলেন—
A) ভি. ডি. সাভারকর
B) রমেশচন্দ্র মজুমদার
C) ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন
D) শশীভূষণ চৌধুরী
Answer: C) ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন
Question 10
মহাবিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন—
A) মহারানি ভিক্টোরিয়া
B) লর্ড ক্যানিং
C) ভারত সচিব
D) ভাইসরয়
Answer: A) মহারানি ভিক্টোরিয়া
Question 11
মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়—
A) কলকাতা
B) মুম্বই
C) মাদ্রাজ
D) এলাহাবাদ
Answer: D) এলাহাবাদ
Question 12
মহারানির ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮) প্রধান উদ্দেশ্য ছিল—
A) ভারতবাসীর আনুগত্য অর্জন
B) একচেটিয়া বাণিজ্য
C) স্বায়ত্তশাসন প্রদান
D) বন্দিদের মুক্তি
Answer: A) ভারতবাসীর আনুগত্য অর্জন
Question 13
ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটিয়ে মহারানি ভিক্টোরিয়া শাসনভার গ্রহণ করেন—
A) ১৮৫৭ খ্রি.
B) ১৮৫৮ খ্রি.
C) ১৮৫৯ খ্রি.
D) ১৮৬১ খ্রি.
Answer: B) ১৮৫৮ খ্রি.
Question 14
“An Act for the Better Government of India” আইনের দ্বারা কোন পদের সৃষ্টি হয়?
A) ভারতীয় কাউন্সিল
B) ভারত সচিব
C) গভর্নর জেনারেল
D) কোনোটিই নয়
Answer: B) ভারত সচিব
Question 15
ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে—
A) ১৮৫৭ খ্রি.
B) ১৮৫৮ খ্রি.
C) ১৯১৯ খ্রি.
D) ১৯৪৭ খ্রি.
Answer: B) ১৮৫৮ খ্রি.
এককথায় উত্তর
Question
কোন সময় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতে জাতীয় স্তরে আন্দোলন শুরু হয়?
Answer: ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে।
Question
কোন সিপাহি প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন?
Answer: মঙ্গল পাণ্ডে।
Question
মঙ্গল পাণ্ডে কবে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন?
Answer: ২৯ মার্চ, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ।
Question
মিরাটে কবে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়?
Answer: ১০ মে, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ।
Question
দিল্লিতে কবে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়?
Answer: ১১ মে, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ।
Question
প্রথম কবে সিপাহিরা বিক্ষোভ শুরু করে?
Answer: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ (বহরমপুরে)।
Question
ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?
Answer: লর্ড ক্যানিং।
Question
১৮৫৭ বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?
Answer: এনফিল্ড রাইফেলের চর্বিযুক্ত কার্তুজ।
Question
নানা সাহেবের আসল নাম কী?
Answer: গোবিন্দ ধন্দু পন্থ।
Question
তাঁতিয়া টোপির আসল নাম কী?
Answer: রামচন্দ্র পান্ডুরঙ্গ টোপি।
ঠিক / ভুল
| উক্তি | উত্তর |
|---|---|
| এনফিল্ড রাইফেলের টোটার প্রচলন হয় | ✔️ ঠিক |
| মঙ্গল পাণ্ডের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় | ❌ ভুল |
| বিদ্রোহীরা বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে | ✔️ ঠিক |
| সুশোভন সরকার বিদ্রোহকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম বলেছেন | ✔️ ঠিক |
| হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সিপাহি বিদ্রোহের সমর্থক ছিলেন | ✔️ ঠিক |
শূন্যস্থান পূরণ
Question
উনিশ শতককে “সভাসমিতির যুগ” বলে অভিহিত করেছেন—
Answer: অনিল শীল।
Question
গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য সভাপতি ছিলেন—
Answer: বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার।
Question
জমিদার সভার অগ্রদূত ছিল—
Answer: বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা।
Question
দ্বারকানাথ ঠাকুরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়—
Answer: জমিদার সভা।
Question
হিন্দুমেলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন—
Answer: জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
Question
১৮৭৫ সালে হিন্দুমেলার বার্ষিক সভায় সভাপতিত্ব করেন—
Answer: রাজনারায়ণ বসু।
Question
ভারতসভা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন—
Answer: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
Question
হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠা করেন—
Answer: নবগোপাল মিত্র।
Question
১৮৭৬ সালে ভারতসভা (Indian Association) প্রতিষ্ঠিত হয়।
Answer: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর উদ্যোগে।
Question
১৮৫৭ সালে বিদ্রোহীরা দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ঘোষণা করে—
Answer: ভারতের সম্রাট।
Question
লরেন্স, সিলি প্রমুখ ১৮৫৭-এর বিদ্রোহকে বলেছেন—
Answer: সামরিক বিদ্রোহ।
Question
অক্ষয়কুমার দত্ত, কিশোরীচাঁদ মিত্র প্রমুখ ১৮৫৭-এর বিদ্রোহকে বলেছেন—
Answer: সিপাহি বিদ্রোহ।
Question
নটন, ম্যালসন, বল, জন কে প্রমুখ ১৮৫৭-এর বিদ্রোহকে বলেছেন—
Answer: গণবিদ্রোহ।
Question
আউট্রাম, ডাফ, রবার্টসন প্রমুখ ১৮৫৭-এর বিদ্রোহকে বলেছেন—
Answer: জাতীয় বিদ্রোহ।


