ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (কবিতা)

 কবি পরিচিতি (Poet Introduction) মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩): জন্ম বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে। হিন্দু কলেজে পড়ার সময়েই ইংরেজিতে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৮৪৩ সালে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। বাংলায় সাহিত্যসৃষ্টি শুরু করে মধুসূদন black verse-এর অনুসরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করে বাংলা কাব্যে যুগান্তর আনেন। গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষায় তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হল মেঘনাদবধ কাব্য। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী। তাঁর রচিত নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম হল শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, মায়াকানন, কৃষ্ণকুমারী প্রভৃতি। এছাড়াও তিনি বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ ও একেই কি বলে সভ্যতা নামে দুটি প্রহসন রচনা করেন।

( অমিত্রাক্ষর ছন্দ — কবিতার লাইনের শেষে মিল না থেকেও মিল/ছন্দ থাকে)

 মূলপাঠ্য – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (চতুর্দশপদী কবিতা, ১৪ পঙক্তি বিশিষ্ট)

বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে। করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে, দীন যে, দীনের বন্ধু! – উজ্জ্বল জগতে হেমাদ্রির হেম-কান্তি অম্লান কিরণে। কিন্তু ভাগ্য-বলে পেয়ে সে মহা পর্বতে, যে জন আশ্রয় লয় সুবর্ণ চরণে, সেই জানে কত গুণ ধরে কত মতে গিরীশা কি সেবা তার সে সুখ-সদনে! দানে বারি নদীরূপে বিমলা কিঙ্করী

(স্বনির্ভরশীল, অন্তহীন সমুদ্র, দরিদ্রের বন্ধু, প্রেমের ছোঁয়া, সেই দাতা → ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর)

যোগায় অমৃত ফল পরম আদরে দীর্ঘ-শিরঃ তরু-দল দাসরূপ ধরি; পরিমলে ফুল-কুল দশ দিশ ভরে; দিবসে শীতল ছায়া, বনেশ্বরী, নিশায় সুশান্ত নিদ্রা, ক্লান্তি দূর করে!

 কবিতার মূল ভাব (Main Theme of the Poem)দয়ার সাগর: বিদ্যাসাগর কেবল জ্ঞানের সাগর নন, তিনি করুণারও সাগর বা ‘করুণাসিন্ধু’।

শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক: জ্ঞান বিতরণ এবং বিধবা বিবাহ প্রচলনসহ সমাজ সংস্কারে তাঁর নির্ভীক ভূমিকা।

বাঙালি সংস্কৃতির দিশারী: সংস্কৃত ও বাংলা ভাষায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং বাংলা গদ্যের আধুনিকীকরণে অবদান।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: মধুসূদন দত্ত নিজ প্রতিভা বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদানের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সংক্ষেপে, এই কবিতাটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বহুমুখী প্রতিভাকে এক অপরিসীম শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরেছে।

Question ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত — A. নানা কবিতা B. ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ C. ব্রজাঙ্গনা কাব্য D. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য

উত্তর: ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’

Question কবির মতে, ঈশ্বরচন্দ্র ‘বিখ্যাত ভারতে’ যে হিসেবে পরিচিত — A. বিদ্যার সাগর হিসেবে B. দয়ার সাগর হিসেবে C. করুণার সিন্ধু হিসেবে D. দীনের বন্ধু হিসেবে

উত্তর: বিদ্যার সাগর হিসেবে

 Question বিদ্যাসাগরকে ‘দীনের বন্ধু’ মনে করত — A. যারা সমাজসেবী তারা B. ঐতিহাসিকরা C. যারা দীন তারা D. তার ভাবনাচিন্তার বিরোধীরা

উত্তর: যারা দীন তারা

Question ‘হেমাদ্রির হেম-কান্তি’ অম্লান হয় — A. শিশিরে B. সূর্যকিরণে C. জ্যোৎস্নায় D. তুষারাচ্ছাদনে

উত্তর: সূর্যকিরণে

 Question মহাপর্বতের সুবর্ণ চরণে আশ্রয় পাওয়া যায় — A. লক্ষ্যে স্থির থাকলে B. ধর্মপথে থাকলে C. ভাগ্যবলে D. শরীর সবল থাকলে

উত্তর: ভাগ্যবলে

Question “কি সেবা তার সে সুখ-সদনে!” — যার কথা বলা হয়েছে — A. সমুদ্র B. পর্বত C. ঈশ্বর D. তরুদল

উত্তর: পর্বত

 Summary ১) ঈশ্বরচন্দ্রের অপার মহিমা → কবির অভিভাবনের প্রতি ২) দীন, দরিদ্র অসহায় মানুষের বন্ধু বিদ্যাসাগর → অপার/অভাবিত জগৎবাসীর প্রতি

 

Scroll to Top
WordPress Store Infobox for WPBakery Page Builder (Formerly Visual Composer) Instagram Theatre Instant Blog – Fast & Simple Blog Php Script Interactive Maps Generator Interactive Service Add-On with Hover Effects for WPBakery Interactive US Map – WordPress Plugin Interactive World Map for Elementor – Mapper Invoice Pdf WooCommerce iRestora PLUS – Next Gen Restaurant POS jCountdown Mega Package