বারিমণ্ডল:-
সংজ্ঞা
‘বারি’ শব্দের অর্থ জল।
পৃথিবীর সমস্ত জলরাশি (সমুদ্র, মহাসাগর, নদী, হ্রদ, ভূগর্ভস্থ জল, হিমবাহ, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি) নিয়ে যে স্তর গঠিত হয়েছে তাকে বারিমণ্ডল (Hydrosphere) বলে।
বারিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত
- মহাসাগর (Oceans)
- সমুদ্র (Seas)
- নদী (Rivers)
- হ্রদ (Lakes)
- ভূগর্ভস্থ জল (Groundwater)
- হিমবাহ (Glaciers)
- জলীয় বাষ্প (Water Vapour)
সমুদ্রস্রোত (Ocean Current)
সংজ্ঞা
সমুদ্র বা মহাসাগরের জলরাশি যখন নির্দিষ্ট দিক অনুসরণ করে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।
উদাহরণ
- গালফ স্ট্রিম
- ল্যাব্রাডর স্রোত
- ক্যানারি স্রোত
- ব্রাজিল স্রোত
সমুদ্রস্রোত কেন সৃষ্টি হয়?
প্রধান কারণ
✅ বায়ুপ্রবাহ
এছাড়াও—
- পৃথিবীর আবর্তন
- কোরিওলিস বল
- তাপমাত্রার পার্থক্য
- লবণাক্ততার পার্থক্য
- ঘনত্বের পার্থক্য
- বরফ গলন
- মৌসুমি বায়ু
- উপকূলের আকৃতি
সমুদ্রস্রোতের প্রধান প্রকারভেদ
১. বহিঃস্রোত (Surface Current)
অন্য নাম
➡️ পৃষ্ঠস্রোত
সংজ্ঞা
সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণ ও হালকা জল যখন নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তখন তাকে বহিঃস্রোত বলে।
বৈশিষ্ট্য
- উপরিভাগে প্রবাহিত হয়
- উষ্ণ জল
- হালকা
- মেরুর দিকে যায়
২. অন্তঃস্রোত (Under Current)
অন্য নাম
➡️ গভীর স্রোত
সংজ্ঞা
মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা ও ভারী জল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হলে তাকে অন্তঃস্রোত বলে।
বৈশিষ্ট্য
- সমুদ্রের নিচে প্রবাহিত
- ঠান্ডা জল
- ভারী
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে যায়
উষ্ণ স্রোত (Warm Current)
সংজ্ঞা
উষ্ণমণ্ডলের উষ্ণ ও হালকা জল যখন সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তখন তাকে উষ্ণ স্রোত বলে।
দিক
নিরক্ষীয় অঞ্চল → মেরু অঞ্চল
বৈশিষ্ট্য
- উষ্ণ
- হালকা
- পৃষ্ঠস্রোত
- বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি করে
উদাহরণ
- Gulf Stream
- Brazil Current
- North Atlantic Drift
- Kuroshio Current
শীতল স্রোত (Cold Current)
সংজ্ঞা
মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা ও ভারী জল যখন সমুদ্রের গভীর অংশ দিয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তখন তাকে শীতল স্রোত বলে।
দিক
মেরু অঞ্চল → নিরক্ষীয় অঞ্চল
বৈশিষ্ট্য
- ঠান্ডা
- ভারী
- গভীর স্রোত
- কুয়াশা সৃষ্টি করতে পারে
উদাহরণ
- Labrador Current
- Canary Current
- California Current
- Peru Current
- Benguela Current
সমুদ্রতরঙ্গ (Sea Wave)
সংজ্ঞা
সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি যখন ওপর-নীচে ওঠানামা করে তখন তাকে সমুদ্রতরঙ্গ বলে।
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ
১. বায়ুপ্রবাহ (Winds)
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
বাণিজ্য বায়ু (Trade Winds)
➡️ পূর্ব থেকে পশ্চিমে স্রোত সৃষ্টি করে।
পশ্চিমা বায়ু (Westerlies)
➡️ পশ্চিম থেকে পূর্বে স্রোত সৃষ্টি করে।
২. পৃথিবীর আবর্তন ও কোরিওলিস বল
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘোরে।
ফলে কোরিওলিস বল সৃষ্টি হয়।
ফলাফল
উত্তর গোলার্ধ
➡️ ডানদিকে বেঁকে যায়।
দক্ষিণ গোলার্ধ
➡️ বামদিকে বেঁকে যায়।
মনে রাখার ট্রিক
North = Right
South = Left
৩. সমুদ্রজলের তাপমাত্রা
গরম জল
- হালকা
- প্রসারিত
- উপরে থাকে
ঠান্ডা জল
- ভারী
- নিচে নামে
ফলে উষ্ণ ও শীতল স্রোত সৃষ্টি হয়।
৪. লবণাক্ততা (Salinity)
বেশি লবণ
➡️ বেশি ঘনত্ব
➡️ ভারী
➡️ নিচে নামে
কম লবণ
➡️ কম ঘনত্ব
➡️ হালকা
➡️ উপরে থাকে
৫. ঘনত্ব (Density)
ঘনত্ব যত বেশি
➡️ জল নিচে যায়
ঘনত্ব যত কম
➡️ জল উপরে থাকে
৬. বরফের গলন
মেরু অঞ্চলে বরফ গলে ঠান্ডা জল সৃষ্টি হয়।
এই জল গভীর স্রোত হিসেবে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে যায়।
৭. উপকূলের আকৃতি
উপকূল বাধা দিলে স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়।
উদাহরণ
ব্রাজিল উপকূলে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত দুই ভাগে বিভক্ত হয়।
৮. ঋতুভেদ
ভারত মহাসাগরে
গ্রীষ্মে
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
শীতে
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
তাই স্রোতের দিক বদলে যায়।
অন্যান্য কারণ
- বাষ্পীভবন
- বায়ুচাপ
- পৃথিবীর অভিকর্ষ
- বৃষ্টিপাত
- বিভিন্ন স্রোতের মিলন
সমুদ্রস্রোতের প্রভাব
১. জলবায়ুর উপর প্রভাব
উষ্ণ স্রোত
➡️ উপকূল উষ্ণ রাখে
শীতল স্রোত
➡️ উপকূল ঠান্ডা রাখে
২. বৃষ্টিপাত
উষ্ণ স্রোত
➡️ বেশি বৃষ্টি
শীতল স্রোত
➡️ কম বৃষ্টি
৩. কুয়াশা
উষ্ণ ও শীতল স্রোত মিলিত হলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ
গালফ স্ট্রিম + ল্যাব্রাডর
৪. মাছের প্রাচুর্য
শীতল স্রোত প্ল্যাঙ্কটন বৃদ্ধি করে।
তাই মাছ বেশি পাওয়া যায়।
৫. নৌপরিবহন
উষ্ণ স্রোত
➡️ বন্দর বরফমুক্ত রাখে।
৬. বাণিজ্য
সমুদ্রপথে বাণিজ্য সহজ হয়।
গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
| উষ্ণ স্রোত | শীতল স্রোত |
|---|---|
| Gulf Stream | Labrador |
| Brazil | Canary |
| Kuroshio | California |
| North Atlantic Drift | Peru |
| Agulhas | Benguela |
গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
| উষ্ণ স্রোত | শীতল স্রোত |
|---|---|
| নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে আসে | মেরু অঞ্চল থেকে আসে |
| উষ্ণ | ঠান্ডা |
| হালকা | ভারী |
| পৃষ্ঠস্রোত | গভীর স্রোত |
| বৃষ্টি বাড়ায় | বৃষ্টি কমায় |
এক নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
- বারিমণ্ডল কী?
- সমুদ্রস্রোত কী?
- সমুদ্রতরঙ্গ কী?
- উষ্ণ স্রোত কী?
- শীতল স্রোত কী?
- বহিঃস্রোত কী?
- অন্তঃস্রোত কী?
- কোরিওলিস বল কী?
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কী?
- সমুদ্রজলের ঘনত্ব কিসের ওপর নির্ভর করে?
- ভারত মহাসাগরে স্রোতের দিক কেন পরিবর্তিত হয়?
- Trade Winds কোন দিকে স্রোত সৃষ্টি করে?
- Westerlies কোন দিকে স্রোত সৃষ্টি করে?
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ MCQ
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ → বায়ুপ্রবাহ
- উত্তর গোলার্ধে স্রোত বেঁকে যায় → ডানদিকে
- দক্ষিণ গোলার্ধে → বামদিকে
- উষ্ণ স্রোত যায় → নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে
- শীতল স্রোত যায় → মেরু থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে
- বেশি লবণাক্ত জল → বেশি ঘন
- কম লবণাক্ত জল → হালকা
- অন্তঃস্রোত হল → গভীর স্রোত
- বহিঃস্রোত হল → পৃষ্ঠস্রোত
- ভারত মহাসাগরের স্রোতের দিক পরিবর্তনের কারণ → মৌসুমি বায়ু
শেষ মুহূর্তের রিভিশন (Exam Revision)
- Hydrosphere = পৃথিবীর সমস্ত জলরাশি
- Ocean Current = সমুদ্রজলের নির্দিষ্ট দিকের প্রবাহ
- Main Cause = বায়ুপ্রবাহ
- North Hemisphere = ডানদিকে বেঁকে যায়
- South Hemisphere = বামদিকে বেঁকে যায়
- Warm Current = নিরক্ষীয় → মেরু
- Cold Current = মেরু → নিরক্ষীয়
- Surface Current = বহিঃস্রোত
- Under Current = অন্তঃস্রোত
- High Salinity = High Density
- Low Salinity = Low Density
- ভারত মহাসাগরে স্রোতের দিক পরিবর্তন = মৌসুমি বায়ু



