বিশ্বের ভাষা ও ভাষা পরিবার

বিশ্বের ভাষা ও ভাষা পরিবার

হাজার ভাষা ও তার অসংখ্য বৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে। ভাষাগুলির মধ্যে সম্পর্ক আছে কিনা, তা নিয়ে ষোড়শ শতকে রোমান ক্যাথলিক মিশনারিরা গভীর পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এ ছাড়া পরবর্তীকালে জার্মান পণ্ডিত শুলৎস এবং ফরাসি ভাষাবিদ ক্যারদ্যুও এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সংস্কৃতের সঙ্গে ইউরোপীয় কয়েকটি ভাষার মিল আছে। আবার উইলিয়াম জোন্স ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা রয়্যাল সোসাইটির অধিবেশনে তাঁর এক বক্তৃতায় গ্রিক, লাতিন, জার্মানিক, সংস্কৃত প্রভৃতি ভাষাবংশের ভাষার মধ্যে সাদৃশ্যের কথা জানান।

তাই পৃথিবীর ভাষাগুলির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করে, অতীত ইতিহাস পুনর্গঠন করে শ্রেণি নির্ণয় করা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিগুলি হল—

  1. ভাষার রূপতত্ত্ব বা আকৃতি অনুযায়ী বিভাগ
  2. গোত্র বা বংশানুযায়ী বিভাগ
  3. মহাদেশ অনুযায়ী বিভাগ
  4. দেশভিত্তিক বিভাগ
  5. ধর্মীয় বিভাগ
  6. কালগত বিভাগ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাষার পরিবর্তন ঘটে বলে নির্দিষ্ট কালগত বিভাগ করা সম্ভব নয়। আবার ধর্মকে ভিত্তি করেও শ্রেণিবিভাগ করা অসম্ভব, কারণ একটি ভাষা বহু ধর্মের মানুষ ব্যবহার করে। বাস্তবে শুধুমাত্র ধর্মের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো ভাষা নেই।

১) ভাষার রূপতত্ত্ব বা আকৃতি অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ

ভাষার মধ্যে বাক্য ও শব্দের বিশ্লেষণ করে সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী যে শ্রেণিবিভাগ করা হয়, তাকেই ভাষার রূপতত্ত্ব বা আকৃতি অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ বলা হয়। এই ধরনের বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ভাষার সাংগঠনিক অবয়বটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শব্দের সঙ্গে জুড়ে থাকে উপসর্গ, প্রত্যয় বা বিভক্তি এবং বাক্যের মধ্যে ক্রিয়া ও অন্যান্য শব্দগুলি পরস্পরের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত থাকে।

কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক ভাষা আছে যেখানে শব্দের সঙ্গে কোনো উপসর্গ-প্রত্যয়-বিভক্তি যুক্ত থাকে না। বাক্যের মধ্যে শব্দের অবস্থান দেখে কর্তা-কর্ম ইত্যাদি নিরূপণ করা হয়, একে অন্বয়ী বা অসমবায়ী বলে। এই ধরনের ভাষা হল চিনা ভাষাগোষ্ঠীর ভাষা, ভারতীয় ভোট-চিনা ভাষা।

আবার শব্দের সঙ্গে প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ এমনভাবে যুক্ত থাকে যে তাদের আলাদা অস্তিত্ব থাকে না, তাকে সমন্বয়ী বর্গ বলে। যেমন- সংস্কৃত, বাংলা, লাতিন, আরবি, ইংরেজি ভাষা এই শ্রেণিভুক্ত।

প্রশ্ন-উত্তর (হাতে লেখা):

  • চিনা ভাষাগোষ্ঠীর ভাষা কেমন? → অসমবায়ী
  • সমন্বয়ী বর্গের কোনটি? → সংস্কৃত, বাংলা, লাতিন

২) গোত্র বা বংশানুযায়ী বিভাগ

বর্তমানে পৃথিবীতে এমন কতগুলি ভাষা ব্যবহৃত হয়, যা অতীতে কোনো একটি ভাষা থেকেই এসেছে। অতীতের সেই ভাষাগুলির কথা মনে রেখে ভাষাবংশগুলির নামকরণ করা হয়েছে। একই বংশজাত ভাষাগুলিকে সমগোত্রজ ভাষা বলা হয়। পৃথিবীর বেশিরভাগ ভাষা বেশ কিছু ভাষা পরিবারে বর্গীভূত হয়েছে; আর যে ভাষাগুলিকে গোত্রে শ্রেণিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি, সেই ভাষাগুলিকে অগোষ্ঠীভূত ভাষা বলা হয়।

পৃথিবী জুড়ে যেসব প্রধান ভাষাবংশ ছড়িয়ে আছে, সেগুলি হল—

  • ইন্দো-ইউরোপীয়
  • অস্ট্রিক
  • দ্রাবিড়
  • ভোট-চিনীয়
  • ককেশীয়
  • বান্টু
  • তুর্ক-মোঙ্গল-মাঞ্জু
  • সেমীয়-হামীয়
  • ফিনো-উগ্রীয় বা উরালীয়
  • উত্তর-পূর্ব সীমান্তীয় বা প্রাচীন এশীয়
  • এস্কিমোদের ভাষা
  • আমেরিকার আদিম ভাষাবংশ

এদের মধ্যে পৃথিবীর বৃহত্তম ভাষাবংশ হল ইন্দো-ইউরোপীয় বা আর্য ভাষাগোষ্ঠী। এই ইন্দো-ইউরোপীয় বা আর্য ভাষাবংশে আবার ১০টি ঐতিহ্যবাহী ভাষাগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত। সেগুলি হল— আর্মেনীয়, আলবানীয়, ইতালিক, ইন্দো-ইরানীয়, কেলতিক, জার্মানিক বা টিউটনিক, গ্রিক, বালতোস্লাভিক, তোখারীয় এবং হিতীয়।

এই ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগোষ্ঠীটি কালক্রমে দ্বিবিভক্ত হয়ে, একটি শাখা ইরানীয় আর্যরূপে ইরান, পারস্যে প্রবেশ করে, আর অন্য শাখাটি ভারতবর্ষে প্রবেশ করে নামধারণ করে ‘ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠী’।

প্রশ্ন-উত্তর (হাতে লেখা):

  • অগোষ্ঠীভূত ভাষা কী?
  • পৃথিবীর প্রাচীন ভাষাবংশ কোনটি? → ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা (বৃহত্তম)
  • জেন্দ-আবেস্তার ভাষা কী? → আবেস্তীয়

বৃহত্তম ভাষাবংশ — ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা (১০টি ভাষা)

                ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা
                /                \
        ইরানীয় আর্য              ভারতীয় আর্য
        (ইরান, পারস্য)           (ভারতবর্ষ)
              |                       ↓
        ______|______              বাংলা ভাষা
       |             |
   আবেস্তীয়      প্রাচীন
    ভাষা          পারস্যের ভাষা

ইরান বা পারস্যে যে শাখাটি প্রবেশ করে, তা থেকে জন্ম নেয় দুটি প্রাচীন ভাষা— আবেস্তীয় এবং প্রাচীন পারসিক। জরথুস্ত্রীয় মতাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ ‘জেন্দ-আবেস্তা’-র ভাষা আবেস্তীয়। এই ইরানীয় শাখার প্রাচীন নিদর্শন হল ‘জেন্দ-আবেস্তা’। ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর যে শাখাটি ভারতবর্ষে ‘ভারতীয় আর্য’ নামে প্রবেশ করে, তা থেকে কালক্রমে জন্ম নেয় আমাদের বাংলা ভাষা।

ইন্দো-ইউরোপীয় বা আর্য ভাষাগোষ্ঠী দুই ভাগে বিভক্ত:

কেন্তুম্ সতম্
গ্রিক আর্মেনীয়
জার্মানিক আলবেনীয়
ইতালীয় বালতোস্লাভিক
কেলতিক ইন্দো-ইরানীয় প্রভৃতি
তোখারীয় প্রভৃতি

৩) মহাদেশ অনুযায়ী বিভাগ

মহাদেশ অনুযায়ী ভাষার শ্রেণিবিভাগের প্রসঙ্গে প্রথমেই বলতে হয় উত্তর আমেরিকার প্রাচীন ঐতিহাপূর্ণ মায়াভাষা ও আজতেক ভাষার প্রচলন রয়েছে। আবার দক্ষিণ আমেরিকায় ‘কিচুয়া‘ ভাষা ব্যবহৃত হত। এখানকার আর একটি উল্লেখযোগ্য ভাষা হল আরাওয়াক। এ ছাড়া এস্কিমো-আলেউট পরিবার উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা উভয় মহাদেশেই প্রচলিত।

প্রশ্ন-উত্তর: দক্ষিণ আমেরিকায় কী ভাষা ব্যবহৃত হয়? → কিচুয়া ভাষা

৪) দেশভিত্তিক বিভাগ

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে দেশভিত্তিক ভাষার প্রচলন রয়েছে। তবে মহাদেশ বা দেশভিত্তিক বিভাগের সমস্যা হল যে, একই ভাষা বিভিন্ন দেশে, এমনকি বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে থাকতে পারে।

বর্তমান পৃথিবীতে আমরা যেসব ভাষাগুলি দেখতে পাই এবং বর্তমানে যেসব ভাষাগুলির অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে গেছে— সেইসব ভাষাগুলিকে কয়েকটি বংশে শ্রেণিবিভক্ত করা হয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুকুমার সেন বলেছেন-“একই পর্যায়ের কিংবা স্তরের বিভিন্ন ভাষার মধ্যে যদি শব্দকোশে যথেষ্ট সাম্য এবং ব্যাকরণে যথোপযুক্ত মিল দেখা যায়, অথবা একাধিক ভাষার পূর্বতন রূপ যদি একই প্রকারের হয়, তবে সেই ভাষার মধ্যে মৌলিক সম্পর্ক থাকবেই। ইহা ভাষাবিজ্ঞানের একটি স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্তসূত্র।”

তাহলে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর ভাষাগুলি কোনো-না-কোনো প্রাচীন ভাষাবংশের অন্তর্গত। এই ভাষাবংশগুলি হল আসলে বর্তমান ভাষাগুলির আদি উৎসভূমি।

ভাষাবংশগুলি হল—

  1. ইন্দো-ইউরোপীয়
  2. সেমীয়-হামীয়
  3. বান্টু
  4. ফিনো-উগ্রীয়
  5. তুর্ক-মোঙ্গল-মাঞ্জু/আলতাইক
  6. ককেশীয়
  7. দ্রাবিড়
  8. অস্ট্রিয়
  9. ভোট-চিনীয়/চিনা-তিব্বতীয়
  10. উত্তর-পূর্ব সীমান্তীয়
  11. এস্কিমো
  12. আমেরিকার আদিম ভাষা

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (বিভিন্ন ভাষাবংশ)

সেমীয়-হামীয়: এই শাখার দুটি উপভাষা সেমীয় এবং হামীয়। ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বাণমুখ লিপিতে লেখা একটি প্রত্নলেখতে সেমীয় উপশাখার প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গেছে। হিব্রু এবং আরবি এর দুটি প্রধান ভাষা। হামীয় উপশাখার কোনো উত্তরাধিকার বর্তমানে নেই। এর অন্তর্গত ভাষা মিশরীয়, বর্তমানে লুপ্ত।

বান্টু: মধ্য এবং পশ্চিম আফ্রিকার অধিকাংশই বান্টু বংশের ভাষার উদাহরণ। যেমন- সোয়াহিলি, কাফির এবং জুলু।

ফিনো-উগ্রীয়: এই বংশের ভাষাগুলির মধ্যে ফিনল্যান্ড নামক দেশের ভাষা ফিনীশ, এস্তোনিয়া নামক দেশের ভাষা এস্তোনীয় এবং হাঙ্গেরীর ভাষা হাঙ্গেরীয় উল্লেখযোগ্য।

ককেশীয়: এই বংশের ভাষাগুলির মধ্যে প্রতিনিধিস্থানীয় ভাষাটি হল জর্জিয়ার ভাষা জর্জীয়।

প্রশ্ন-উত্তর (হাতে লেখা):

  • ফিনল্যান্ডের ভাষা কী? → ফিনীশ
  • দ্রাবিড় ভাষার প্রচলন কোথায় দেখা যায়? → ভারতের দক্ষিণে
  • ভোট-চিনীয় ভাষার প্রধান উপভাষাটি? → চিনা

তুর্ক-মোঙ্গল-মাঞ্জু: এই ভাষাবংশে রয়েছে তিনটি প্রধান শাখা — তুর্ক-তাতার, মোঙ্গল এবং মাঞ্জু। তুর্ক-তাতার শাখার প্রধান ভাষা হল তুর্ক, তাতার এবং কিরঘিজিস্তানের ভাষা কিরঘিজ ও উজবেকিস্তানের ভাষা উজবেক্। মঙ্গোলিয়া এবং রাশিয়ার কিছু স্থানে রয়েছে মোঙ্গল শাখার ভাষা মঙ্গোলয়েড। মাঞ্জু শাখার প্রধান ভাষা সাইবেরিয়ার ভাষা তুঙ্গুস এবং মাঞ্জুরিয়ার ভাষা মাঞ্জু।

দ্রাবিড়: এই বংশের ভাষাগুলি মূলত ভারতবর্ষের দক্ষিণ অংশে বিদ্যমান রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তামিলনাড়ুর ভাষা তামিল, কর্ণাটকের ভাষা কন্নড়, অন্ধ্রপ্রদেশের ভাষা তেলুগু এবং কেরলের ভাষা মালয়ালম।

অস্ট্রিয়: এই বংশের দুটি উপশাখা- (১) অস্ট্রো-এশিয়াটিক, (২) অস্ট্রোনেশীয়। অস্ট্রো-এশিয়াটিক-এর অন্তর্গত ভাষাগুলি হল কোল, শবর, খাসি, মুণ্ডারি, সাঁওতালি, নিকোবরি ইত্যাদি। দ্বিতীয় শাখার উদাহরণ মালয়, যবদ্বীপীয় ইত্যাদি।

ভোট-চিনীয়: এই ভাষাবংশের তিনটি উপশাখা— চিনীয়, থাই, ভোট-বর্মি। চিনীয় উপশাখার প্রধান ভাষাটি হল ‘চিনা’। থাই উপশাখার প্রধান ভাষা হল শ্যাম তথা থাইল্যান্ডের ভাষা শ্যামী বা থাই। তৃতীয় উপশাখার অন্তর্গত ভাষাগুলি হল তিব্বতের ভাষা তিব্বতী, মায়ানমারের ভাষা বর্মি এবং আসাম ও নাগাল্যান্ডের বোড়ো, নাগা প্রভৃতি ভাষা।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত: এই ভাষাবংশের উল্লেখযোগ্য ভাষা হল চুকচী।

এস্কিমো: গ্রিনল্যান্ড থেকে আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত অংশের ভাষাকে বলা হয় এস্কিমো।

আমেরিকার আদিবাসী ভাষাবংশ: এই বংশের অন্তর্গত ভাষা হল আট রকমের। যেমন- (১) আথাবাস্কান (২) ইরোকোয়ীয়ান, (৩) আলগঙ্কীয়ান, (৪) মুস্কোজীয়ান, (৫) পিমান, (৬) সিওউয়ান, (৭) শোশোনীয়ান, (৮) নাহুয়াল্লান।

ইন্দো-ইউরোপীয়: এই ভাষাবংশ সকল ভাষাবংশগুলির শ্রেষ্ঠ বংশ। এই বংশ থেকেই ভারতবর্ষের শীর্ষস্থানীয় ভাষাগুলির সৃষ্টি। এই ভাষাবংশের অন্তর্গত ভাষাগুলি হল— (১) ইন্দো-ইরানীয়, (২) বালতোস্লাভিক (৩) আলবেনীয়, (৪) আর্মেনীয়, (৫) গ্রিক, (৬) ইতালীয়, (৭) জার্মানিয়, (৮) কেলতিক, (৯) তোখারীয়, (১০) হিত্তীয়

মূল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা

মূল ইন্দো-ইউরোপীয় বা মূল আর্যভাষার কোনো লিখিত তথা প্রামাণ্য গ্রন্থ বা লিপি পাওয়া যায়নি। তাই এই ভাষার প্রকৃত রূপ কেমন ছিল, তা সঠিকভাবে জানার উপায় নেই, বেশিটাই অনুমান নির্ভর। এ ছাড়া এই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল, তাও সঠিকভাবে জানা যায় না। ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (আনুমানিক) নানা কারণে এই শাখায় ভাঙন ধরে এবং মানুষজন ছোটো ছোটো শাখায় বিভক্ত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছোটো ছোটো শাখাগুলিকে আমরা তালিকাবদ্ধ করতে পারি এভাবে—

(১) ইন্দো-ইরানীয় (৬) ইতালীয়
(২) বালতোস্লাভিক (৭) কেলতিক
(৩) আলবেনীয় (৮) জার্মানীয়
(৪) আর্মেনীয় (৯) তোখারীয়
(৫) গ্রিক (১০) হিত্তীয়

পরবর্তীকালে ধ্বনির রূপান্তরকে কেন্দ্র করে ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর অন্তর্গত ছোটো ছোটো ভাষাবংশগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— (১) সতম্, (২) কেন্তুম্। সতম্ গুচ্ছে পড়ে চারটি ছোটো ভাষা বংশ। যেমন— ইন্দো-ইরানীয়, বালতোস্লাভিক, আলবেনীয়, আর্মেনীয়। কেন্তুম্ গুচ্ছেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কয়েকটি ছোটো ছোটো ভাষাবংশ। যেমন— গ্রিক, ইতালীয়, কেলতিক, জার্মানিয়, তোখারীয়, হিত্তীয়।

ইন্দো-ইরানীয়: এটি সতম্ গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার যে শাখাটি বেরিয়ে আসার পর দু-টুকরো হয়, সেটি ইন্দো-ইরানীয়। এর একটি অংশ ইরানে প্রবেশ করেছে এবং অপর অংশ উত্তর-পশ্চিমের গিরিবর্ত্ম দিয়ে ভারতে ঢুকেছে। এই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষেরা আর্য হিসেবে পরিচিত। ইরানে যে শাখা প্রবেশ করেছে, তার থেকে দুটি প্রাচীন ভাষার জন্ম হয়েছে। যেমন-(১) আবেস্তীয়, (২) পারসিক। ভারতে যে শাখা প্রবেশ করেছে তা ভারতীয় আর্যভাষা হিসেবে পরিচিত।

বালতোস্লাভিক: এই শাখাটির দুটি ভাগ-বাল্টিক এবং স্লাভিক। বাল্টিক উপশাখার একটি উল্লেখযোগ্য ভাষা হল লিথুয়ানিয়ার ভাষা লিথুয়ানীয়। স্লাভিক-এর অন্তর্গত প্রধান কয়েকটি ভাষা হল বুলগেরিয়ী, রাশিয়ান প্রভৃতি।

আলবেনীয়: এই শাখার ভাষা আধুনিক আলবানীয় আদ্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে লক্ষ করা গেছে। অধুনা খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকে এই ভাষার নিদর্শন পাওয়া গেছে।

আর্মেনীয়: এই শাখার প্রাচীন রূপটি আর্মেনিয়া অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া যায়। আধুনিক আর্মেনীয় ভাষা আর্মেনিয়া ছাড়াও অন্য কিছু দেশে প্রচলিত আছে। এটি সতম্ গুচ্ছের অন্তর্গত।

গ্রিক: এটি কেন্তুম্ গুচ্ছের অন্তর্গত। এই উপশাখাটির একমাত্র ভাষা গ্রিক। এই সমৃদ্ধ প্রাচীন ভাষাটি গ্রিস ছাড়াও এশিয়া মাইনর, সাইপ্রাস প্রভৃতি অঞ্চলে চালু ছিল।

ইতালীয়: এটি কেন্তুম্ গুচ্ছের অন্তর্গত। এই উপশাখার সমৃদ্ধ ভাষাটি হচ্ছে লাতিন। আধুনিক যুগে ইতালীয় ভাষার জন্ম হয়। এই ভাষার মধ্যে পড়ে-ইতালীয়, ফরাসি, স্পেনীয়, পোর্তুগিজ ইত্যাদি।

কেলতিক: কেন্তুম্ গুচ্ছের একটি উপশাখা হল কেলতিক। পূর্বকালে ইউরোপে কেলতিকের প্রসার ভালোই ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে তা কমে যায়। এই শাখার বর্তমান ভাষারূপ হল আয়ারল্যান্ডের আইরিশ ভাষা।

জার্মানিয়: কেন্তুম্ গুচ্ছের এই উপশাখাটি ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে পৃথক হয়েই জনপ্রিয় হয়েছিল। এই উপশাখার অন্তর্গত আধুনিক ভাষাগুলি হল: সুইডেনের ভাষা সুইডিশ, আয়ারল্যান্ডের ভাষা আয়ারল্যান্ডিক, ইংরেজি, জার্মান, ওলন্দাজ বা ডাচ্ ইত্যাদি।

তোখারীয়: এটি কেন্তুম্ গুচ্ছের অন্তর্গত। চিনের তুর্কিস্থান নামক অঞ্চল থেকে এই ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। এই ভাষাটির উদ্ভবকাল আনুমানিক খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দশম শতাব্দী। এই শাখাটি বর্তমানে পুরোপুরি লুপ্ত।

হিত্তীয়: বর্তমান শতাব্দীতে আবিষ্কৃত এই উপশাখাটি কেতুম্ গুচ্ছের অন্তর্গত। বাণমুখ লিপিতে লেখা এই ভাষার অনেকগুলি প্রত্নলেখ পাওয়া গেছে। খ্রিস্টপূর্ব বিংশ থেকে খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীর মধ্যে এগুলি লিখিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।

আর্যরা ভারতে প্রবেশ করার আগেই ভারতে কয়েক প্রকার ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করত। যেমন-অস্ট্রিয়, দ্রাবিড়, ভোট-চিনীয় প্রভৃতি। এই সকল মানুষজনের সংস্পর্শে আসার ফলে আর্যভাষার সঙ্গে এইসব ভাষাগোষ্ঠীর নানা ভাষাবৈশিষ্ট্য ও শব্দের ভাণ্ডার সংযুক্ত হয়ে পড়ে।

ভারতবর্ষে দীর্ঘদিন মুসলমান শাসন কায়েম ছিল। এদের থেকে অসংখ্য প্রকার আরবি, ফারসি, তুর্কি শব্দ বাংলা ভাণ্ডারে প্রবেশ করে। এরপর পোর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি প্রভৃতি মানুষজনের ভাষার সঙ্গেও বাংলা ভাষার সংযোগ ঘটেছে। এভাবে নানা অভিঘাতের মধ্য দিয়ে আধুনিক বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে।

ভারতীয় আর্যভাষা — তিনটি স্তর

স্তর সময়কাল
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষা ৯০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান সময়

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

  1. ই, ঈ, ঋ, ৯, এ, ঐ প্রভৃতি স্বরধ্বনি এবং শ, স, য প্রভৃতি শিসধ্বনির ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
  2. যুক্ত ব্যঞ্জনের ব্যবহার এই পর্বের বৈশিষ্ট্য। যেমন- (স্থ) → সুস্থ, (ক্র) → ক্লীব
  3. বচন ছিল তিন প্রকার— (১) একবচন, (২) দ্বিবচন, (৩) বহুবচন। উদাহরণ— একবচন – নরঃ, দ্বিবচন – নরৌ, বহুবচন – নরাঃ
  4. লিঙ্গ ছিল তিন প্রকার— (১) পুংলিঙ্গ, (২) স্ত্রীলিঙ্গ, (৩) ক্লীবলিঙ্গ। উদাহরণ— পুংলিঙ্গ – নর, স্ত্রীলিঙ্গ – লতা, ক্লীবলিঙ্গ – ফলম্
  5. সম্বোধন পদ ছাড়া কারক ছিল সাতটি। যেমন— (১) কর্তৃকারক, (২) কর্মকারক, (৩) করণকারক, (৪) সম্প্রদানকারক, (৫) অপাদানকারক, (৬) সম্বন্ধকারক, (৭) অধিকরণকারক।

মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

  1. প্রাচীন ভারতীয় আর্যের তুলনায় স্বরধ্বনির সংখ্যা কমে গেল।
  2. প্রাচীন ভারতীয় আর্যের যুক্ত ব্যঞ্জন মধ্য ভারতীয় আর্যে যুগ্ম ব্যঞ্জনে পরিণত হল। যেমন— কর্ম > কম্ম, ধর্ম > ধম্ম।
  3. প্রাচীন ভারতীয় আর্যের ‘ঐ’ এবং ‘ঔ’ স্বরধ্বনিদ্বয় মধ্য ভারতীয় আর্যে ‘এ’ এবং ‘ও’ স্বরধ্বনিতে পরিণত হল। যেমন— ঔসধানি > ওসধানি।
  4. পদান্তে ‘ং’ ব্যঞ্জনটি ছাড়া অপরাপর ব্যঞ্জনধ্বনির বিলোপ ঘটল।
  5. সমীভবনের ফলে যুক্ত ব্যঞ্জন একই জাতীয় ব্যঞ্জনে পরিণত হল। যেমন— কর্ম > কম্ম।

নিদর্শন: অশোকের শিলালিপি, সংস্কৃত নাটকের নারী ও নীচু শ্রেণির পুরুষ চরিত্রের সংলাপে, বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক এবং জৈন ধর্মগ্রন্থে।

প্রশ্ন-উত্তর: মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার নিদর্শন কোনটি? → অশোকের শিলালিপি

আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষা

আর্যভাষার এই স্তরে নানা আধুনিক ভাষাগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। কথ্য মাগধী প্রাকৃত ভাষার পূর্বী শাখার অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয় খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে। পরে পৃথক পৃথকভাবে বাংলা ভাষার কথ্য ও লেখ্যরূপ তৈরি হয়েছে।

স্তর কাল নিদর্শন
প্রাচীন বাংলা আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ চর্যাপদ
আদি-মধ্য বাংলা ১৩৫০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
অন্ত্য-মধ্য বাংলা ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ কাব্য
আধুনিক বাংলা ১৭৬০ থেকে বর্তমান সময় রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ প্রভৃতি

প্রশ্ন-উত্তর (হাতে লেখা):

  • আদি বাংলার নিদর্শন কোনটি? → চর্যাপদ
  • মধ্য বাংলার প্রাচীন নিদর্শন → শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কোন যুগের নিদর্শন?
    • a) আদি মধ্য বাংলা ✗
    • b) প্রাচীন বাংলা
    • c) মধ্য বাংলা
    • d) আধুনিক বাংলা

প্রাচীন বাংলার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

  1. একক ব্যঞ্জনের উপস্থিতি (যুক্তব্যঞ্জন→যুগ্মব্যঞ্জন→একক ব্যঞ্জন) এবং আদিস্বর দীর্ঘ হয়। যেমন— কর্ম > কম্ম > কামা।
  2. একাধিক স্বরধ্বনির পাশাপাশি অবস্থান দেখা যায়। যেমন— ভণতি > ভণই।
  3. শব্দমধ্যস্থ নাসিক্য ব্যঞ্জন লোপ পেয়ে যায় এবং ফলস্বরূপ পূর্ববর্তী স্বর অনুনাসিক হয়ে পড়ে। যেমন— শব্দেন > সাঁদে।
  4. ‘ল’ বা ‘ইল’ যোগে অতীতকাল গঠিত হয়। যেমন— দেখিল।
  5. ‘ইব’ যোগে ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন— করিব।

আদি-মধ্য বাংলার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

  1. মহাপ্রাণ বর্ণের প্রাচুর্য।
  2. অপিনিহিতি প্রায় নেই বললেই চলে।
  3. অতীতকালের ক্রিয়া স্ত্রীলিঙ্গ বাচক। যেমন— ‘গেলা শ্রীমতী শ্যামের পাশা’
  4. সম্বন্ধের বিভক্তি হল ‘র’, ‘এর’, ‘ক’, ‘কের’। যেমন— পিতলের দীপা।
  5. প্রত্যয়ের ব্যাপক প্রয়োগ।

অন্ত্য-মধ্য বাংলার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

  1. আদি অক্ষরে শ্বাসাঘাতের ফলে মধ্যস্বরের লোপ অথবা ক্ষীণ উচ্চারণ। যেমন— হলদি > হল্দি।
  2. অপিনিহিতি তেমন লক্ষ করা যায় না।
  3. পদান্তে একক ব্যঞ্জনের পর ‘অ’ লোপ। যেমন— জ্ঞান > জ্ঞান্, চলন > চল্ন।
  4. নাসিক্য মহাপ্রাণ বর্ণের মহাপ্রাণতা লোপ। যেমন— আমিহ > আমি।
  5. বহুবচন নির্দেশক প্রত্যয়ের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। কতগুলা, ছেলেগুলা।

আধুনিক বাংলা ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

  1. সাহিত্যিক গদ্য উপভাষার উদ্ভব ও বিকাশ।
  2. সাহিত্যিক গদ্যের দুটি রূপ লক্ষ করা গেল—
    • সাধুরীতি
    • চলিতরীতি
  3. রাঢ়ি, বঙ্গালি, ঝাড়খণ্ডি, কামরূপী, বরেন্দ্রী প্রভৃতি কথ্য উপভাষার উদ্ভব ও বিকাশ লক্ষ করা গেল।
  4. পূর্ববঙ্গের উপভাষায় অপিনিহিতি লক্ষ করা গেল। কাটিয়া। কাইটা > কেটে।
  5. পশ্চিমবঙ্গের উপভাষায় অভিশ্রুতি লক্ষ করা গেল। যেমন— মারিয়া > মাইরা > মেরে।

বিশ্বের ভাষা পরিবারে রেখাচিত্র

প্রধান ভাষাবংশ: → ইন্দো-ইউরোপীয়/আর্য → সেমীয়-হামীয় → বান্টু → ফিনো-উগ্রীয় → তুর্ক-মোঙ্গল-মাঞ্জু → ককেশীয় → দ্রাবিড় → অস্ট্রিক → ভোট-চিনীয় → উত্তর-পূর্ব সীমান্তীয় → এস্কিমো → আমেরিকার আদিম ভাষা

ইন্দো-ইউরোপীয়/আর্য এর উপশাখা: → ইন্দো-ইরানীয় → বালতোস্লাবিক → আলবানীয় → আর্মেনীয় → গ্রিক → ইতালিক → টিউটনিক → কেলতিক → তোখারীয় → হিত্তীয়

প্রশ্নোত্তর (MCQ Practice)

প্রশ্ন ১: বাক্যের মধ্যে শব্দের অবস্থান দেখে কর্তা-কর্ম নিরূপণ করাকে বলা হয়—

  • A) পদান্বয়ী
  • B) মুক্তান্বয়ী
  • C) সমন্বয়ী
  • D) অনন্বয়ী

প্রশ্ন ২: মুক্তান্বয়ী বর্গের ভাষা হল—

  • A) তোখারীয়, কেলতিক
  • B) বালতোস্লাভিক
  • C) সংস্কৃত, বাংলা
  • D) আলবেনীয়, আর্মেনীয়

প্রশ্ন ৩: পৃথিবীর বৃহত্তম ভাষাবংশটি হল—

  • A) ভোট-চিনীয়
  • B) ফিনো-উগ্রীয় বা উরালীয়
  • C) তুর্ক-মোঙ্গল-মাঞ্জু
  • D) ইন্দো-ইউরোপীয়

প্রশ্ন ৪: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার অপর নাম—

  • A) ইরানীয় ভাষা
  • B) আর্যভাষা
  • C) অনার্য ভাষা
  • D) প্রাচীন এশীয় ভাষা

প্রশ্ন ৫: জার্মানিক বা টিউটনিক ভাষাগোষ্ঠীটি যে মূল ভাষাগোষ্ঠী থেকে জন্মলাভ করে সেটি হল—

  • A) অস্ট্রিক
  • B) ইন্দো-ইরানীয়
  • C) ইন্দো-ইউরোপীয়
  • D) কেলতিক

প্রশ্ন ৬: ইরানীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠী প্রবেশ করে—

  • A) ভারতে
  • B) পারস্যে
  • C) ইটালিতে
  • D) জার্মানিতে

প্রশ্ন ৭: জরথুস্ত্রীয় মতাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থটি হল—

  • A) থুস্ত্রীয় গ্রন্থ
  • B) জেন্দ-আবেস্তা
  • C) বেদ
  • D) বাইবেল

প্রশ্ন ৮: জেন্দ-আবেস্তা ধর্মগ্রন্থটির ভাষা হল—

  • A) দ্রাবিড়
  • B) গ্রিক
  • C) ভোট-চিনা
  • D) আবেস্তীয়

প্রশ্ন ৯: ইরানীয় শাখার প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়—

  • A) কোরানে
  • B) বাইবেলে
  • C) জেন্দ-আবেস্তায়
  • D) বেদে

প্রশ্ন ১০: বাংলা ভাষার জন্ম হয়—

  • A) ভারতীয় আর্যভাষা থেকে
  • B) দ্রাবিড় ভাষা থেকে
  • C) ইরানীয় আর্যভাষা থেকে
  • D) অস্ট্রিক ভাষা থেকে

প্রশ্ন ১১: ‘সতম্’ ভাষা শ্রেণির একটি উল্লেখযোগ্য ভাষাগোষ্ঠী হল—

  • A) জার্মানিক
  • B) ইন্দো-ইরানীয়
  • C) কেলতিক
  • D) ইতালিক

Table of Contents

Scroll to Top
WordPress Store PayPal Payment Terminal WordPress PayPal PRO Payment Terminal PDF Creator for NEX-Forms PDF Viewer – Addon For Elementor PDFMentor Pro – WordPress PDF Generator for Elementor Perfect WooCommerce Brands Perfex CRM Chat & Tickets App for Support Board Personalization for WPBakery Page Builder Pesi Questionnaire – Multiresult Survey and Quiz WordPress Plugin Photography Addons for WPBakery Page Builder – Photobakery