বিংশ শতাব্দীর ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বাম আন্দোলন: বৈশিষ্ট্য ও পর্যবেক্ষণ( PART- 2)

Part 1 – Click Here

Download Notes PDf – Click Here

চম্পারণ সত্যাগ্রহ

সময় ও স্থান: ১৯১৭ সালে, বিহারের চম্পারণ জেলায়।

প্রকৃতি: এটি ছিল ভারতে মহাত্মা গান্ধীর প্রথম সত্যাগ্রহ আন্দোলন।

আন্দোলনের পটভূমি ও কারণ

তিনকাঠিয়া প্রথা: চম্পারণের কৃষকদের প্রতি বিঘা জমির ৩/২০ অংশে (৩ কাঠা) বাধ্যতামূলকভাবে নীল চাষ করতে হতো।

অর্থনৈতিক শোষণ: ইউরোপীয় নীলকররা কৃষকদের ওপর অত্যাচার করত এবং অত্যন্ত কম দামে নীল কিনত। পরে কৃত্রিম নীলের প্রচলন হলে নীলকররা কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপায়।

রাজকুমার শুক্লের আমন্ত্রণ: স্থানীয় কৃষক নেতা রাজকুমার শুক্ল মহাত্মা গান্ধীকে চম্পারণে এসে কৃষকদের দুর্দশা দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

গান্ধীর ভূমিকা ও আন্দোলন পদ্ধতি

তদন্ত ও সত্যাগ্রহ: ১৯১৭ সালের এপ্রিলে গান্ধীজি চম্পারণে পৌঁছান। ব্রিটিশ সরকারের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ তিনি অহিংসভাবে অমান্য করেন।

তথ্য সংগ্রহ: গান্ধীজি ও তাঁর সহযোগীরা (রাজেন্দ্র প্রসাদ, জে. বি. কৃপালনী প্রমুখ) হাজার হাজার কৃষকের বক্তব্য সংগ্রহ করেন।

নেতৃত্ব

রাজকুমার শুক্ল: গান্ধীজিকে চম্পারণে আমন্ত্রণ জানান।

মহাত্মা গান্ধী: আন্দোলনের প্রধান নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

আন্দোলনের ধরণ

আইন অমান্য আন্দোলন: এটি ছিল গান্ধীজির প্রথম Civil Disobedience আন্দোলন।

অহিংস সত্যাগ্রহ: আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।

ফলাফল

চম্পারণ কৃষি আইন: ব্রিটিশ সরকার চম্পারণ এগ্রারিয়ান কমিটি গঠন করে এবং তিনকাঠিয়া প্রথা বিলুপ্ত করে।

কর ফেরত: কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করা অবৈধ করের ২৫% ফেরত দেওয়া হয়।

গান্ধীজির উত্থান: এই সাফল্যের মাধ্যমে গান্ধীজি জাতীয় আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

তাৎপর্য

জাতীয় নেতৃত্ব: গান্ধীজির নেতৃত্ব সর্বভারতীয় স্বীকৃতি লাভ করে।

সত্যাগ্রহের সাফল্য: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অহিংস সত্যাগ্রহের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়।

কৃষক আন্দোলনের গুরুত্ব: কৃষকদের সমস্যা জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

খেদা সত্যাগ্রহ

সময় ও স্থান: ১৯১৮ সালে, গুজরাটের খেদা জেলায়।

প্রকৃতি: এটি ছিল মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি কৃষক আন্দোলন।

পটভূমি

খরা ও ফসলহানি: ১৯১৮ সালে খেদা জেলায় তীব্র খরা দেখা দেয় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

অর্থনৈতিক সংকট: কৃষকরা চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়ে।

কর আদায়: ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার পূর্ণ হারে খাজনা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

আন্দোলনের কারণ

কর মকুবের দাবি: কৃষকরা ফসলহানির কারণে কর মকুবের দাবি জানায়।

কর বর্জন আন্দোলন: গান্ধীজি কৃষকদের কর না দেওয়ার আহ্বান জানান।

নেতৃত্ব

মোহনলাল পান্ডে: প্রথমে স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করেন।

মহাত্মা গান্ধী: পরে আন্দোলনের প্রধান নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

সহযোগী নেতা: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, ইন্দুলাল যাজ্ঞিক ও শঙ্করলাল ব্যাংকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আন্দোলনের ধরণ

অহিংস সত্যাগ্রহ: সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।

কর বর্জন: কৃষকরা সংগঠিতভাবে খাজনা প্রদান বন্ধ রাখেন।

ফলাফল

সরকারের নতি স্বীকার: ব্রিটিশ সরকার আংশিকভাবে কৃষকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

কর আদায়ে শিথিলতা: যারা কর দিতে অক্ষম, তাদের কাছ থেকে কর আদায় স্থগিত করা হয়।

আন্দোলনের সাফল্য: কৃষকদের ঐক্য ও অহিংস আন্দোলনের শক্তি প্রমাণিত হয়।

তাৎপর্য

গান্ধীবাদের সাফল্য: সত্যাগ্রহ পদ্ধতির কার্যকারিতা আরও প্রতিষ্ঠিত হয়।

কৃষক জাগরণ: কৃষকদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রভাব: ভারতের জাতীয় আন্দোলনে কৃষকদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হয়।

একা আন্দোলন

সময় ও স্থান: ১৯২১-২২ সালে, উত্তর প্রদেশের বারাবাঁকি, হারদই, সীতাপুর ও বাহরাইচ অঞ্চলে।

প্রকৃতি: এটি ছিল কৃষকদের ঐক্য ও অধিকার রক্ষার আন্দোলন।

পটভূমি

অতিরিক্ত খাজনা: জমিদাররা নির্ধারিত খাজনার ওপর প্রায় ৫০% অতিরিক্ত খাজনা আদায় করত।

বেগার শ্রম: কৃষকদের বিনা মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

অত্যাচার: জমিদার ও মহাজনদের শোষণে কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

আন্দোলনের কারণ

খাজনা হ্রাসের দাবি: কৃষকরা অতিরিক্ত খাজনা দিতে অস্বীকার করে।

বেগার প্রথার বিরোধিতা: বিনা মজুরির শ্রম বন্ধের দাবি ওঠে।

ঐক্যের প্রয়োজন: কৃষকরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

নেতৃত্ব

মাদারী পাশি: একা আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন।

বাবা গরিবদাস: আন্দোলনকে রাজনৈতিক চেতনা ও স্বরাজের দাবির সঙ্গে যুক্ত করেন।

আন্দোলনের ধরণ

শপথ গ্রহণ: কৃষকরা একত্রিত হয়ে অন্যায় খাজনা না দেওয়ার শপথ নেয়।

ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: জমিদার ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

কংগ্রেসের ভূমিকা

প্রাথমিক সমর্থন: কংগ্রেস ও খিলাফত নেতারা শুরুতে আন্দোলনকে উৎসাহ দেন।

সমর্থন প্রত্যাহার: আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নিলে কংগ্রেস সমর্থন প্রত্যাহার করে।

ফলাফল

সরকারি দমননীতি: ব্রিটিশ সরকার কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মাদারী পাশির গ্রেপ্তার: আন্দোলনের প্রধান নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আন্দোলনের অবসান: ১৯২২ সালের মার্চ মাসে আন্দোলন কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তাৎপর্য

কৃষক ঐক্যের প্রতীক: কৃষকদের সংগঠিত শক্তির প্রকাশ ঘটে।

রাজনৈতিক সচেতনতা: গ্রামীণ সমাজে রাজনৈতিক চেতনার বিস্তার ঘটে।

ভবিষ্যৎ আন্দোলনের ভিত্তি: পরবর্তী কৃষক আন্দোলনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়।

বারদৌলি সত্যাগ্রহ

সময় ও স্থান: ১৯২৮ সালে, গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকে।

প্রকৃতি: এটি ছিল কৃষকদের খাজনা বৃদ্ধি বিরোধী অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন।

পটভূমি

খাজনা বৃদ্ধি: ব্রিটিশ সরকার বারদৌলি অঞ্চলে ভূমি-রাজস্ব (খাজনা) প্রায় ২২% বৃদ্ধি করে।

কৃষকদের দুরবস্থা: ফসলের ক্ষতি ও আর্থিক সংকটের কারণে কৃষকদের পক্ষে অতিরিক্ত খাজনা দেওয়া সম্ভব ছিল না।

প্রতিবাদ: কৃষকরা সরকারের অন্যায় খাজনা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে শুরু করে।

নেতৃত্ব

বল্লভভাই প্যাটেল: আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন।

স্থানীয় কৃষক নেতারা: কুনভারজি মেহতা, কল্যাণজি মেহতা প্রমুখ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আন্দোলনের ধরণ

খাজনা বর্জন: কৃষকরা অতিরিক্ত খাজনা দিতে অস্বীকার করেন।

অহিংস সত্যাগ্রহ: সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিত উপায়ে আন্দোলন পরিচালিত হয়।

ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: কৃষকরা জমি বাজেয়াপ্ত ও সরকারি দমননীতির বিরুদ্ধে ঐক্য বজায় রাখেন।

ফলাফল

সরকারের নতি স্বীকার: ব্রিটিশ সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়।

খাজনা হ্রাস: বৃদ্ধি করা খাজনা প্রত্যাহার করা হয়।

বিজয়: কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়া হয় এবং আন্দোলন সফল হয়।

তাৎপর্য

‘সর্দার’ উপাধি: আন্দোলনের সাফল্যের জন্য বল্লভভাই প্যাটেল “সর্দার” উপাধি লাভ করেন।

কৃষক ঐক্য: কৃষকদের সংগঠিত শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

জাতীয় আন্দোলনে প্রভাব: স্বাধীনতা সংগ্রামে কৃষকদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়।

আইন অমান্য আন্দোলন-পর্বে কৃষক আন্দোলন

প্রেক্ষাপট

লাহোর অধিবেশন (১৯২৯): কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজের দাবি উত্থাপন করে।

১১ দফা দাবি: ১৯৩০ সালে গান্ধীজি ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ পত্রিকায় ১১ দফা দাবি প্রকাশ করেন।

সরকারের প্রত্যাখ্যান: ব্রিটিশ সরকার দাবিগুলি উপেক্ষা করলে আইন অমান্য আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডান্ডি অভিযান: ১২ মার্চ ১৯৩০ গান্ধীজি ডান্ডিতে লবণ আইন ভঙ্গ করে আন্দোলনের সূচনা করেন।

বৈশিষ্ট্য

সর্বভারতীয় বিস্তার: উত্তরপ্রদেশ, বিহার, বাংলা, গুজরাট, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা প্রভৃতি অঞ্চলে কৃষক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

খাজনা বর্জন: বহু স্থানে কৃষকরা সরকারি খাজনা ও জমিদারি কর দেওয়া বন্ধ করে।

জমিদার বিরোধী আন্দোলন: কৃষকরা জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে।

বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক আন্দোলন

উত্তরপ্রদেশ: কৃষকরা খাজনা প্রদান বন্ধ করে।

বিহার: জমি কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

বাংলা: খাজনা বন্ধ আন্দোলন ও ভাগচাষীদের আন্দোলন শুরু হয়।

গুজরাট: সত্যাগ্রহ আন্দোলন পরিচালিত হয়।

অন্ধ্রপ্রদেশ: খাজনা বন্ধ আন্দোলন সংগঠিত হয়।

কেরালা: কংগ্রেস নেতা কেলাপ্পনের নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন পরিচালিত হয়।

কিষাণ আন্দোলনের উত্থান

কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল: ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা: ১৯৩৬ সালে গঠিত হয়।

কমিউনিস্টদের ভূমিকা: কৃষক আন্দোলনে সমাজতান্ত্রিক ও বামপন্থী আদর্শের প্রসার ঘটে।

ফলাফল

কৃষকদের রাজনৈতিক জাগরণ: কৃষকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ও রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।

সংগঠিত কৃষক আন্দোলন: কিষাণ সভা ও বামপন্থী কৃষক সংগঠন শক্তিশালী হয়।

স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান: কৃষক আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।

আইন অমান্য আন্দোলন-পর্বে শ্রমিক আন্দোলন

সময় ও প্রেক্ষাপট

১৯৩০ সাল: আইন অমান্য আন্দোলনের সময় শ্রমিক আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে।

জাতীয় আন্দোলনের প্রভাব: শ্রমিকরা ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে।

শ্রমিক আন্দোলনের বিস্তার

কোলাপুরের ধর্মঘট: মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে প্রায় ২০ হাজার বস্ত্রশিল্প শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

রেলওয়ে শ্রমিকদের ভূমিকা: লবণ সত্যাগ্রহের পর বোম্বের G.I.P. রেলওয়ে ইউনিয়নের শ্রমিকরা রেললাইনে শুয়ে সত্যাগ্রহ পরিচালনা করে।

ধর্মঘট বৃদ্ধি: বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ বৃদ্ধি পায়।

কমিউনিস্টদের ভূমিকা

শ্রমিক সংগঠন: কমিউনিস্ট পার্টি শ্রমিকদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শ্রমিক অধিকার: মজুরি বৃদ্ধি, কাজের সময় হ্রাস এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন পরিচালিত হয়।

রেড ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (RTUC)

প্রতিষ্ঠা: ১৯৩১ সালে সোমনাথ লাহিড়ী ও বি. টি. রণদিভের উদ্যোগে রেড ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (RTUC) গঠিত হয়।

উদ্দেশ্য: শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং শ্রমিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করা।

প্রভাব: দেশব্যাপী ধর্মঘট ও শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া

কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ: ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্ট পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করে।

দমননীতি: শ্রমিক আন্দোলন দমন করার জন্য বিভিন্ন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শ্রমিক বিরোধী আইন: বোম্বাই সরকার শ্রমিক-স্বার্থবিরোধী আইন প্রণয়নের চেষ্টা করে।

ফলাফল

শ্রমিক চেতনার বিকাশ: শ্রমিকদের মধ্যে রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনা বৃদ্ধি পায়।

সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলন: ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়।

স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান: শ্রমিক আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।

তাৎপর্য

জাতীয় আন্দোলনের শক্তি বৃদ্ধি: শ্রমিকদের অংশগ্রহণে আইন অমান্য আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ লাভ করে।

শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা: ভবিষ্যতের শ্রমিক আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

বামপন্থী রাজনীতির প্রসার: শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে বামপন্থী চিন্তাধারা ও সংগঠনের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

বিহারে কৃষক বিদ্রোহ

সময় ও প্রেক্ষাপট

অসহযোগ আন্দোলনের সময়: বিহারে কৃষক বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করে।

কারণ: খাজনা বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকরা আন্দোলনে নামে।

আন্দোলনের বিস্তার

প্রধান কেন্দ্র: দ্বারভাঙ্গা অঞ্চল।

অন্যান্য জেলা: মুজফ্ফরপুর, ভাগলপুর, পূর্ণিয়া, মুঙ্গের, সীতামারী ও মধুবনী।

নেতৃত্ব

স্বামী বিদ্যানন্দ: আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন।

মধ্যবিত্ত চাষীদের সমর্থন: তিনি মধ্যবিত্ত কৃষক শ্রেণিকে সংগঠিত করেন।

আন্দোলনের উদ্দেশ্য

খাজনা বন্ধ: জমিদারদের খাজনা প্রদান বন্ধ করার দাবি।

শোষণের অবসান: জমিদারি অত্যাচার ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

কৃষক অধিকার: কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।

আন্দোলনের ধরণ

খাজনা বর্জন: কৃষকরা খাজনা দিতে অস্বীকার করে।

প্রতিবাদ ও সংঘর্ষ: অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

কংগ্রেসের ভূমিকা

সমর্থনের অভাব: বিহারের অধিকাংশ জমিদার কংগ্রেস সমর্থক হওয়ায় কংগ্রেস আন্দোলনকে সমর্থন করেনি।

সাহায্যের আবেদন: স্বামী বিদ্যানন্দ কংগ্রেসের কাছে সাহায্য চাইলেও তা পাননি।

ফলাফল

আন্দোলনের দুর্বলতা: কংগ্রেসের সমর্থন না পাওয়ায় আন্দোলন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

সচেতনতার বিকাশ: কৃষকদের মধ্যে অধিকার ও শোষণবিরোধী চেতনা বৃদ্ধি পায়।

তাৎপর্য

কৃষক জাগরণ: বিহারের কৃষকদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা: কৃষক আন্দোলন জাতীয় আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।

রাজস্থানে কৃষক বিদ্রোহ

সময় ও প্রেক্ষাপট

অসহযোগ আন্দোলনের সময়: রাজস্থানে কৃষকরা জমিদারি শোষণ ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

কারণ: অতিরিক্ত খাজনা, কর বৃদ্ধি ও জমিদারদের অত্যাচার।

বিজোলিয়া কৃষক আন্দোলন

অঞ্চল: মেওয়ারের বিজোলিয়া।

নেতৃত্ব: মতিলাল তেজওয়াত।

অংশগ্রহণকারী: ভিল সম্প্রদায়ের কৃষকরা।

আন্দোলনের উদ্দেশ্য

খাজনা হ্রাস: অতিরিক্ত খাজনা কমানোর দাবি।

জমিদারি বিরোধিতা: জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

কৃষক অধিকার: কৃষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।

মাড়োয়ার কৃষক আন্দোলন

অঞ্চল: মাড়োয়ার।

নেতৃত্ব: জয়নারায়ণ ব্যাস।

উদ্দেশ্য: জমিদারি শোষণ ও অতিরিক্ত করের বিরুদ্ধে আন্দোলন।

আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য

রাজনৈতিক সচেতনতা: কৃষকদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।

সংগঠিত প্রতিরোধ: কৃষকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে।

স্বনির্ভর সংগ্রাম: অনেক ক্ষেত্রে কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়াই আন্দোলন চলে।

ফলাফল

কৃষক ঐক্য বৃদ্ধি: কৃষকদের মধ্যে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

শোষণবিরোধী চেতনা: জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শক্তিশালী হয়।

তাৎপর্য

কৃষক আন্দোলনের প্রসার: রাজস্থানে কৃষক আন্দোলনের ভিত্তি মজবুত হয়।

জাতীয় আন্দোলনের অংশ: স্বাধীনতা সংগ্রামে কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।

অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম: কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ সুগম হয়।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষক আন্দোলন

প্রেক্ষাপট:

  • ১৯৪২ সালে ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতার পর গান্ধীজি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেন।
  • ১৪ জুলাই ১৯৪২ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ভারত ছাড়ো প্রস্তাব গ্রহণ করে।
  • ৮ আগস্ট ১৯৪২ মুম্বাই অধিবেশনে গান্ধীজি “করো বা মরো” (Do or Die) আহ্বান জানান।
  • ৯ আগস্ট ১৯৪২ ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের গ্রেফতার করে এবং কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করে।
  • নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হলেও সাধারণ মানুষ আন্দোলনকে গণআন্দোলনে পরিণত করে।

কৃষকদের অংশগ্রহণ:

  • আন্দোলন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রদেশের কৃষকরা এতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেয়।
  • বাংলায় রাজবংশী ও আদিবাসী কৃষকরা জমিদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে।
  • বিহারে কৃষকরা আন্দোলনের প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন থানা দখল করে।
  • উড়িষ্যায় উপজাতি কৃষকরা অভ্যুত্থান ঘটায়।
  • গুজরাটে কৃষকরা গেরিলা পদ্ধতিতে আক্রমণরেল অবরোধ করে।

কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা:

  • কমিউনিস্ট পার্টি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল।
  • তবুও মেদিনীপুরের কৃষকরা পার্টির নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনে যোগ দেয়।

কৃষকদের ভূমিকা:

  • কৃষকরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
  • তারা স্বাধীনতা ও নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য সক্রিয় সংগ্রাম চালায়।
  • আন্দোলনটি গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক গণসমর্থন লাভ করে।

তাৎপর্য:

  • কৃষকদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে।
  • স্বাধীনতা সংগ্রামে কৃষকদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হয়।
  • ভারত ছাড়ো আন্দোলন গণআন্দোলনের রূপ লাভ করে।
  • স্বাধীনতা অর্জনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

MCQ

Question 1
আলী মুসলিয়ার কে ছিলেন?
A) জমিদার
B) কংগ্রেস নেতা
C) ধর্মীয় নেতা ✅
D) কৃষক সভার সভাপতি


Question 2
মোপলা বিদ্রোহ দমনের জন্য সরকার কী জারি করেছিল?
A) রাওলাট আইন
B) সামরিক আইন ✅
C) জরুরি অবস্থা
D) ভারত শাসন আইন


Question 3
ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতার পর কোন আন্দোলন শুরু হয়?
A) অসহযোগ আন্দোলন
B) আইন অমান্য আন্দোলন
C) ভারত ছাড়ো আন্দোলন ✅
D) খিলাফত আন্দোলন


Question 4
ভারত ছাড়ো প্রস্তাব কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি কবে গ্রহণ করে?
A) ৮ আগস্ট ১৯৪২
B) ৯ আগস্ট ১৯৪২
C) ১৪ জুলাই ১৯৪২ ✅
D) ১৫ আগস্ট ১৯৪২


Question 5
“করো বা মরো” স্লোগানটি কে দিয়েছিলেন?
A) সুভাষচন্দ্র বসু
B) মহাত্মা গান্ধী ✅
C) জওহরলাল নেহরু
D) বল্লভভাই প্যাটেল


Question 6
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় বাংলার কোন কৃষকরা খাজনা বন্ধ করে দেয়?
A) ভিল কৃষক
B) মোপলা কৃষক
C) রাজবংশী ও আদিবাসী কৃষক ✅
D) নীলচাষি কৃষক


Question 7
গুজরাটের কৃষকরা কী কৌশলে আন্দোলন পরিচালনা করেছিল?
A) সত্যাগ্রহ
B) গেরিলা পদ্ধতি ✅
C) ধর্মঘট
D) অনশন


Question 8
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল—
A) কংগ্রেস
B) ফরওয়ার্ড ব্লক
C) কমিউনিস্ট পার্টি ✅
D) মুসলিম লীগ


Question 9
মেদিনীপুরের কৃষকরা কার নির্দেশ অমান্য করে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেয়?
A) কংগ্রেস
B) ব্রিটিশ সরকার
C) মুসলিম লীগ
D) কমিউনিস্ট পার্টি ✅


Question 10
নিম্নের কোন আন্দোলনটি পরবর্তীকালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় পরিণত হয়?
A) বিজোলিয়া আন্দোলন
B) বিহার কৃষক বিদ্রোহ
C) মোপলা বিদ্রোহ ✅
D) ভারত ছাড়ো আন্দোলন


সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Question: বিহারের কৃষক বিদ্রোহের কারণ, বৈশিষ্ট্য ও ফলাফল আলোচনা কর।

উত্তর (সংক্ষেপে):

  • অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিহারে কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয়।
  • স্বামী বিদ্যানন্দ এর নেতৃত্ব দেন।
  • জমিদারি খাজনা ও শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে।
  • কংগ্রেস সমর্থন না দেওয়ায় আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • তবুও কৃষকদের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।

Question: মোপলা বিদ্রোহের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ ও ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

উত্তর (সংক্ষেপে):

  • ১৯২১ সালে মালাবারে মোহাম্মদ হাজীর নেতৃত্বে শুরু হয়।
  • জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিদ্রোহ ছিল।
  • ইয়াকুব হাসান ও আলী মুসলিয়ারের গ্রেপ্তারে আন্দোলন তীব্র হয়।
  • পরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় পরিণত হয়।
  • সরকার সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহ দমন করে।
  • এটি দক্ষিণ ভারতের কৃষক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

Question: ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা আলোচনা কর।

উত্তর (সংক্ষেপে):

  • ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।
  • বাংলায় রাজবংশী ও আদিবাসী কৃষকরা খাজনা বন্ধ করে।
  • বিহারে কৃষকরা আন্দোলনের প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে।
  • উড়িষ্যায় উপজাতি কৃষকরা বিদ্রোহ করে।
  • গুজরাটে কৃষকরা গেরিলা কৌশল গ্রহণ করে।
  • কৃষকদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গণআন্দোলনে পরিণত করে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামকে শক্তিশালী করে।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষক আন্দোলন

সময় ও প্রেক্ষাপট:

  • ১৯৪২ সালে ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতার পর ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়।
  • ১৪ জুলাই ১৯৪২ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ভারত ছাড়ো প্রস্তাব গ্রহণ করে।
  • ৮ আগস্ট ১৯৪২ মুম্বাই অধিবেশনে গান্ধীজি “করো বা মরো” (Do or Die) আহ্বান জানান।
  • ৯ আগস্ট ১৯৪২ ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেস নেতাদের গ্রেপ্তার করে এবং কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করে।

কৃষকদের অংশগ্রহণ:

  • বাংলায় রাজবংশী ও আদিবাসী কৃষকরা খাজনা বন্ধ করে দেয়।
  • বিহারে কৃষকরা আন্দোলনের প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে এবং থানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।
  • উড়িষ্যায় উপজাতি কৃষকরা বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
  • গুজরাটে কৃষকরা গেরিলা কৌশল গ্রহণ করে এবং রেল অবরোধ করে।

কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা:

  • কমিউনিস্ট পার্টি আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল।
  • তবুও মেদিনীপুরের কৃষকরা পার্টির নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনে যোগ দেয়।

ফলাফল ও গুরুত্ব:

  • কৃষকদের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
  • স্বাধীনতা সংগ্রামে কৃষকদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়।
  • ভারত ছাড়ো আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়।

ভারত ছাড়ো আন্দোলন-পর্বে শ্রমিক আন্দোলন

প্রেক্ষাপট:

  • ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মুম্বাইয়ের প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক যুদ্ধবিরোধী ধর্মঘট করে।
  • ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়।

কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান:

  • জার্মানির রাশিয়া আক্রমণের পর কমিউনিস্ট পার্টি ব্রিটিশদের সমর্থন করে।
  • ফলে তারা ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেয়নি।

শ্রমিকদের ধর্মঘট:

  • গান্ধীজি ও অন্যান্য নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করে।
  • জামশেদপুরের টাটা কারখানায় ৩০ হাজার শ্রমিক ধর্মঘট করে।
  • এর ফলে কারখানা ১৩ দিন বন্ধ ছিল।
  • আহমেদাবাদের বস্ত্র শ্রমিকরা টানা তিন মাসের বেশি ধর্মঘট চালায়।

শ্রমিক আন্দোলনের গুরুত্ব:

  • শ্রমিকদের মধ্যে ঐক্য ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
  • স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্রমিক শ্রেণির ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • মুম্বাই → ৯০ হাজার শ্রমিকের যুদ্ধবিরোধী ধর্মঘট (১৯৩৯)
  • টাটা কারখানা, জামশেদপুর → ৩০ হাজার শ্রমিক, ১৩ দিন কারখানা বন্ধ
  • আহমেদাবাদ → বস্ত্র শ্রমিকদের ৩ মাসের বেশি ধর্মঘট

ফলাফল:

  • ১৯৪৩ সালের পর আন্দোলনের তীব্রতা কমে যায়।
  • তবুও শ্রমিক আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়।

স্বদেশী আন্দোলন-পর্বে শ্রমিক আন্দোলন (১৯০৫)

প্রেক্ষাপট:

  • ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর স্বদেশী আন্দোলনের সূচনা হয়।
  • এই সময় বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও রেলওয়ে ওয়ার্কশপে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়।
  • উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ বিরোধিতা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা

কংগ্রেস নেতাদের সমর্থন:

  • বিপিনচন্দ্র পাল
  • চিত্তরঞ্জন দাস
  • লিয়াকত হোসেন
  • শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

শ্রমিক সংগঠন ও ধর্মঘট:

  • অম্বিকাচরণ ব্যানার্জি শ্রমিকদের সংগঠিত করেন।
  • প্রভাতকুসুম রায়চৌধুরী
  • অশ্বিনীকুমার ব্যানার্জি
  • অপূর্বকুমার ঘোষ
  • বিভিন্ন কারখানায় ধর্মঘট সংগঠিত করেন।

শ্রমিকদের দাবি:

  • মজুরি বৃদ্ধি।
  • শ্রমিক অধিকার রক্ষা।
  • উন্নত কর্মপরিবেশ।

বালগঙ্গাধর তিলকের কারাদণ্ডের প্রতিবাদ:

  • ১৯০৮ সালে তিলকের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে।
  • বোম্বাইয়ের বস্ত্রশিল্প শ্রমিকরা ৬ দিন ধর্মঘট পালন করে।

সরকারের দমননীতি:

  • ব্রিটিশ সরকার বলপ্রয়োগে আন্দোলন দমন করে।
  • ফলে শ্রমিক আন্দোলন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

বামপন্থী চিন্তাধারার প্রকাশ

সূচনা:

  • সুভাষচন্দ্র বসুজওহরলাল নেহরুর প্রভাবে কংগ্রেসে বামপন্থী চিন্তার প্রসার ঘটে।
  • কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে এই ভাবধারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

লেবার স্বরাজ পার্টি (১৯২৫)

  • ১ নভেম্বর ১৯২৫
  • প্রতিষ্ঠা: বাংলা
  • নাম: Labour Swaraj Party of the Indian National Congress

প্রতিষ্ঠাতারা:

  • কাজী নজরুল ইসলাম
  • হেমন্তকুমার সরকার
  • কুতুবউদ্দিন আহমেদ

নতুন নাম (১৯২৬)

  • কৃষ্ণনগর, নদিয়া
  • নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন
  • নতুন নাম:
    Workers and Peasants Party of Bengal

নেতৃত্ব:

  • সভাপতি: নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
  • যুগ্ম সম্পাদক:
    • হেমন্তকুমার সরকার
    • কুতুবউদ্দিন আহমেদ

দলের মূল উদ্দেশ্য:

  • শ্রমিকদের কাজের সময় কমানো।
  • সর্বনিম্ন মজুরি নিশ্চিত করা।
  • শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন।
  • জমিদারি প্রথা বিলোপ।
  • সংবাদপত্র ও বাক স্বাধীনতা।

সর্বভারতীয় সংগঠন:

  • ১৯২৮ সালে
  • All India Workers and Peasants Party গঠিত হয়।
  • সাধারণ সম্পাদক: আর. এস. নিম্বকার

উল্লেখযোগ্য পত্রিকা:

পত্রিকা সম্পাদক
Socialist এস. এ. ডাঙ্গে
Labour Kisan Gazette এস. চেট্টিয়ার
Inquilab গোলাম হোসেন
লাঙ্গল কাজী নজরুল ইসলাম

যুব শাখা:

  • Youth Comrades League
  • নেতা: পি. সি. যোশী

উল্লেখযোগ্য ধর্মঘট:

  • বোম্বাই বস্ত্রশিল্পে ১.৫ লক্ষ শ্রমিকের ৬ মাসব্যাপী ধর্মঘট।
  • চেঙ্গাইল ও বাউড়িয়া (বাংলা) জুটমিলে ৬ মাসব্যাপী ধর্মঘট।

সাইমন কমিশন বিরোধিতা:

  • বোম্বাই ও কলকাতার শ্রমিকরা প্রতিবাদে অংশ নেয়।

সরকারি পদক্ষেপ:

  • হুইটলি কমিশন গঠন।
  • শিল্প বিরোধ বিল পাস করে ধর্মঘটকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়।

মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯)

  • বিভিন্ন শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
  • শ্রমিক আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ-পর্বে শ্রমিক আন্দোলন (১৯৪৫-৪৭)

আজাদ হিন্দ ফৌজ বিচার:

  • লালকেল্লায় INA সৈনিকদের বিচারের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলন।

রশিদ আলী দিবস:

  • কলকাতায় পালিত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার সমর্থন:

  • বোম্বাই ও কলকাতা বন্দরের শ্রমিকরা ইন্দোনেশিয়াগামী জাহাজে অস্ত্র বোঝাই করতে অস্বীকার করে।

নৌবিদ্রোহ (১৯৪৬)

  • বোম্বাইয়ে নৌসেনা বিদ্রোহকে সমর্থন করে।
  • ৩ লক্ষ শ্রমিক ধর্মঘট পালন করে।

সংঘর্ষ:

  • শ্রমিকদের সঙ্গে সেনা-পুলিশের সংঘর্ষ।
  • প্রায় ২৫০ শ্রমিক নিহত হয়।

অন্যান্য ধর্মঘট:

  • সারা ভারতের ডাক ও তার বিভাগের কর্মচারীরা ধর্মঘট পালন করে।

উপসংহার

  • ১৯০৫ সালের স্বদেশী আন্দোলনে বামপন্থী প্রভাব কম থাকায় কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন সীমিত ছিল।
  • ১৯২০-এর পর বামপন্থী চিন্তার প্রসারে কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন শক্তিশালী হয়।
  • কংগ্রেসের তুলনায় বামপন্থী নেতারা কৃষক-শ্রমিকদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
  • শ্রমিক আন্দোলন প্রধানত বাংলা ও বোম্বাই অঞ্চলে বেশি প্রভাব ফেলেছিল।

MCQ – বামপন্থী চিন্তাধারা ও শ্রমিক আন্দোলন

Question 1

‘লেবার স্বরাজ পাটি’-এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে কে ছিলেন না?

A) কাজী নজরুল ইসলাম
B) হেমন্তকুমার সরকার
C) কুতুবউদ্দিন আহমেদ
D) পি.সি. জোশি ✅

Answer: D) পি.সি. জোশি


Question 2

‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেসেন্টস পার্টি অফ বেঙ্গল’-এর প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

A) আর.এস. নিম্বকার
B) পি.সি. জোশি
C) নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত ✅
D) এস.এ. ডানগে

Answer: C) নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত


Question 3

১৯২৬ সালে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে কোন সম্মেলনে দলের নতুন নামকরণ করা হয়?

A) বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন
B) নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন ✅
C) কংগ্রেস অধিবেশন
D) কৃষক সম্মেলন

Answer: B) নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন


Question 4

সারা ভারত ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেসেন্টস পার্টির সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?

A) এস.এ. ডানগে
B) গোলাম হোসেন
C) আর.এস. নিম্বকার ✅
D) কুতুবউদ্দিন আহমেদ

Answer: C) আর.এস. নিম্বকার


Question 5

‘লাঙ্গল’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন—

A) এস. চেট্টিয়ার
B) গোলাম হোসেন
C) কাজী নজরুল ইসলাম ✅
D) এস.এ. ডানগে

Answer: C) কাজী নজরুল ইসলাম


Question 6

‘সোস্যালিস্ট’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন—

A) গোলাম হোসেন
B) এস.এ. ডানগে ✅
C) এস. চেট্টিয়ার
D) পি.সি. জোশি

Answer: B) এস.এ. ডানগে


Question 7

পি.সি. জোশির নেতৃত্বে কোন যুব সংগঠন গড়ে ওঠে?

A) যুব ভারত সভা
B) যুব কমিউনিস্ট লীগ
C) যুব কমরেড লিগ ✅
D) ছাত্র ফেডারেশন

Answer: C) যুব কমরেড লিগ


Question 8

বোম্বাইয়ে বস্ত্রশিল্পে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে কতজন শ্রমিক ছয় মাসব্যাপী ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে?

A) ১ লক্ষ
B) ১.২৫ লক্ষ
C) ১.৫ লক্ষ ✅
D) ২ লক্ষ

Answer: C) ১.৫ লক্ষ


Question 9

শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতায় শঙ্কিত হয়ে ব্রিটিশ সরকার কোন কমিশন গঠন করে?

A) সাইমন কমিশন
B) হান্টার কমিশন
C) হুইটলি কমিশন ✅
D) স্যাডলার কমিশন

Answer: C) হুইটলি কমিশন


Question 10

১৯৪৬ সালের নৌবিদ্রোহে বোম্বাইয়ে নৌসেনাদের সমর্থনে কতজন শ্রমিক ধর্মঘট করে?

A) ১ লক্ষ
B) ২ লক্ষ
C) ৩ লক্ষ ✅
D) ৫ লক্ষ

Answer: C) ৩ লক্ষ

Scroll to Top